অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের ছায়া? সরাসরি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বারামতীর আকাশে বুধবার সকালে যা ঘটে গেল, তাকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মর্মান্তিক প্রয়াণে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে গভীর শোক ব্যক্ত করে তিনি লিখেছেন, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অজিত পওয়ার ছাড়াও এই দুর্ঘটনায় দুই পাইলটসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

অভিশপ্ত ‘লিয়ারজেট ৪৫’ ও প্রশ্নচিহ্ন: যে ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানে চড়ে পওয়ার যাচ্ছিলেন, তার ইতিহাস কিন্তু বেশ বিতর্কিত। ২০০৩ সালে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ভারতে এই বিমানের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। উইন্ডশিল্ডে ফাটল ধরা থেকে শুরু করে এয়ার প্রেশারের গুরুতর সমস্যা— তালিকায় ছিল অনেক কিছু। পরে রিমডেলিং করে তা পুনরায় চালু হলেও, একজন ভিভিআইপি-র জন্য কেন এই মডেলের বিমান বেছে নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উড্ডয়নের আগে ইঞ্জিনিয়ারদের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো ফাঁক ছিল কি না, এখন সেটাই তদন্তের মূল বিষয়।

আবহাওয়ার সতর্কতা কি উপেক্ষা করা হয়েছিল? বুধবার সকাল থেকেই বারামতীর পাহাড়ি এলাকায় ঘন কুয়াশার দাপট ছিল। জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় দৃশ্যমানতা কার্যত শূন্যে নেমে এসেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, পাহাড়ি এলাকায় উড্ডয়নের আগে আবহাওয়া দপ্তরের নিখুঁত রিপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। দৃশ্যমানতা এত কম থাকা সত্ত্বেও কেন বিমানটিকে নামার অনুমতি দেওয়া হলো? এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) এবং পাইলটের মধ্যে শেষ মুহূর্তের কথোপকথন এখন বড় চাবিকাঠি হতে পারে।

মমতার উদ্বেগ: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দেশের একজন হেভিওয়েট নেতার নিরাপত্তা বলয়ে এমন ছিদ্র থাকা কাম্য নয়। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। বারামতীর সেই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বিমানটি আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে আগুন ধরে যায়, যা যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনাকেও উস্কে দিচ্ছে।