UGC-র নয়া নিয়মে কি বিপাকে উচ্চবর্ণ? কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) প্রবর্তিত ‘প্রমোশন অফ ইক্যুইটি’ রেগুলেশন ২০২৬ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এই নিয়ম আনা হলেও, ভারতের উচ্চবর্ণ সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই নিয়ম আসলে সাধারণ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক এবং এর অপব্যবহারে মিথ্যা মামলার শিকার হতে পারেন তাঁরা। যখন শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরের শীর্ষ নেতারা এই স্পর্শকাতর ইস্যুতে মৌনব্রত পালন করছেন, তখন মহারাষ্ট্রের শিবসেনা (UBT) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী প্রকাশ্যে এই নিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

বৈষম্য ঘোচাতে গিয়ে কি নতুন ঘৃণা? সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী সরাসরি ইউজিসি-র নির্দেশিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেছেন, “বৈষম্য দূর করার নামে আপনারা ক্যাম্পাসে আরও বড় বিভেদ তৈরি করছেন। এই নির্দেশিকাগুলি পড়ে মনে হচ্ছে যেন আপনারা আগে থেকেই ধরে নিয়েছেন যে কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিই ভুক্তভোগী এবং অন্য একটি শ্রেণি শুধুই অত্যাচারী।” তাঁর মতে, এই একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক ঘৃণা ও বিদ্বেষ বাড়িয়ে তুলছে।

মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না: সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে এই আইনের অপব্যবহার হবে না। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, আইনি লড়াইয়ের সময় শিক্ষামন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাস কোনো কাজে আসবে না। তাঁর সাফ কথা, “যদি উদ্দেশ্য স্বচ্ছ হয়, তবে এই নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে সকলের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত।”

আইনের সংজ্ঞায় ধোঁয়াশা: সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন, “অপরাধ কীভাবে নির্ধারিত হবে? কেবল কথার ভিত্তিতে না কি কারও উপলব্ধির ভিত্তিতে? যদি উচ্চবর্ণের ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়, তবে তাঁদের সুরক্ষার কবচ কোথায়?” তিনি মনে করেন, আইন সবার জন্য সমান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন। ক্যাম্পাসগুলোতে নেতিবাচক পরিবেশ রুখতে এবং বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ইউজিসি-র এই বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।