মহাকাশ বিজ্ঞানে মহাবিপ্লব! নাসার নতুন সুপার কম্পিউটার ‘Athena’ কি বদলে দেবে ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য?

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) আবারও বিশ্বকে চমকে দিল। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত নাসার রিসার্চ সেন্টারে সম্প্রতি ইনস্টল করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ‘Athena’ (অ্যাথেনা)। মহাকাশ গবেষণার জটিলতম গাণিতিক সমস্যার সমাধান এবং বিশাল ডেটাবেস বিশ্লেষণ করতেই এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি আনা হয়েছে। দীর্ঘ বিটা টেস্টিং পর্ব শেষ করে এখন এটি বিজ্ঞানীদের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

গতি ও পারফরম্যান্স: Athena-র শক্তি সম্পর্কে নাসার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, এটি ২০ পেটাফ্লপস (Petaflops) পিক পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি প্রতি সেকেন্ডে কয়েক কোটি কোটি ডেটা ক্যালকুলেশন করতে পারে, যা নাসার আগের কম্পিউটারগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি দ্রুত। নাসার সায়েন্স ডেটা প্রধান কেভিন মুরফি জানিয়েছেন, নাসার অনুসন্ধিৎসু মন সবসময়ই নতুনত্বের খোঁজে থাকে। এই সুপার কম্পিউটারটি নাসার বিভিন্ন জটিল মিশনে প্রয়োজনীয় গণনার চাহিদা অনায়াসেই মেটাবে।

কী কী কাজে আসবে Athena? নাসার মতে, এই সুপার কম্পিউটারটি পুরো এজেন্সির সিংহভাগ গবেষণার কাজ সামলাতে সক্ষম। এর প্রধান ব্যবহার হবে:

রকেট লঞ্চ সিমুলেশন: রকেট উৎক্ষেপণের সময় বায়ুমণ্ডলের প্রভাব ও যান্ত্রিক খুঁটিনাটি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ।

নেক্সট-জেন এয়ারক্রাফ্ট: পরবর্তী প্রজন্মের অত্যাধুনিক বিমান তৈরির নকশা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI): বৃহৎ মাপের এআই মডেল তৈরি করা, যা মহাকাশের ধুলিকণা থেকে নক্ষত্ররাজির গতিবিধি বুঝে নিতে পারবে।

ডেটা ইনসাইট: নাসার দীর্ঘ কয়েক দশকের জমানো ডেটা বিশ্লেষণ করে নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক দিশা খুঁজে বের করা।

নামের রহস্য ও ব্যবহারকারী: ২০২৫ সালের মার্চ মাসে একটি বিশেষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই নাম নির্বাচন করা হয়। গ্রীকদের জ্ঞান ও যুদ্ধের দেবীর নামানুসারে এর নাম রাখা হয়েছে ‘Athena’। নাসার ডেটা সায়েন্স অফিসার এই পুরো সিস্টেমের দেখভাল করবেন। মজার বিষয় হলো, নাসার বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি নাসার সঙ্গে যুক্ত গবেষক ও অংশীদাররাও বাণিজ্যিক ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সুপার কম্পিউটারের সুবিধা নিতে পারবেন।