“শতাব্দীতে একজনই আসে”, অরিজিতের বিদায়ে ভেঙে পড়লেন বাদশা-বি প্রাকরা

কোথাও পৌঁছাতে গেলে কোনো একটা জায়গা থেকে বেরোতে হয়— জীবনের এই কঠিন সত্যকে সঙ্গী করেই কি তবে বিদায়ের পথে বলিউডের ‘সুরসম্রাট’? জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই মুহূর্তে উত্তাল গোটা দেশ। তাঁর এই সিদ্ধান্ত কি গানের জগত থেকে পাকাপাকি অবসর? ভক্তদের মনে এখন শুধুই আশঙ্কার কালো মেঘ। শুধু অনুরাগীরাই নন, বাদশাহ থেকে বি প্রাক— সংগীত জগতের দিকপালরাও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না যে অরিজিৎ এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সহকর্মীদের চোখে জল: অরিজিতের ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই শোকের ছায়া নেমে আসে বিনোদন জগতে। র্যাপার বাদশা মাত্র তিনটি শব্দে নিজের আবেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সদিওঁ মে এক” (শতাব্দীতে একজন)। গায়ক-সুরকার আমাল মালিক যেন দিশেহারা। তিনি লিখেছেন, “আমি এটা বুঝতে পারছি না… কিন্তু আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। শুধু জেনে রাখুন, সিনেমা জগতের গান আপনাকে ছাড়া আর আগের মতো থাকবে না। আপনার যুগে জন্মানোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” জনপ্রিয় গায়ক বি প্রাক সাফ জানিয়েছেন, তিনি আজীবন অরিজিতের ভক্ত থাকবেন। অভিনেত্রী রিচা চাড্ডাও কমেন্ট সেকশনে কান্নার ইমোজি দিয়ে নিজের মনের অবস্থা বুঝিয়েছেন।
এক সোনালী অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ: ‘তুম হি হো’ থেকে শুরু করে ‘চান্না মেরেয়া’, ‘আগর তুম সাথ হো’ কিংবা সাম্প্রতিক ‘কেসরিয়া’— অরিজিতের কণ্ঠ মানেই ছিল শ্রোতাদের মনের গহীন কোণে পৌঁছে যাওয়া এক জাদুকরী অনুভূতি। তাঁর গান শুধু সুর নয়, হয়ে উঠেছিল কোটি কোটি মানুষের যন্ত্রণার মলম আর ভালোবাসার ভাষা। বিশাল ভরদ্বাজের আসন্ন সিনেমা ‘ও রোমিও’-তে তাঁর কাজ বা ‘বর্ডার ২’-এর ‘ঘর কব আওগে’ গানটি এখনও মানুষের হৃদয়ে টাটকা।
কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত? যদিও অরিজিৎ সিং তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ খোলসা করেননি, তবুও তাঁর বারংবার বলা ‘শান্তিতে থাকতে চাওয়ার’ ইচ্ছাটা কি তবেই পূর্ণ হতে চলেছে? গানের জগত থেকে সরে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত যদি সত্যিই চূড়ান্ত হয়, তবে ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীত এক অপূরণীয় শূন্যতার সম্মুখীন হবে। ভক্তদের প্রার্থনা এখন একটাই— প্রিয় গায়ক যেন আবারও মাইক হাতে মঞ্চে ফিরে আসেন।