নতুন রাউটার লাগিয়েও নেট স্লো? আপনার এই ৩টি ভুলেই কচ্ছপ গতিতে চলছে ওয়াই-ফাই!

পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা বলছে লাইন ঠিক আছে, রাউটারও দামী, তবুও পাশের ঘরে গেলেই ভিডিও বাফার হচ্ছে? অফিসের গুরুত্বপূর্ণ মিট মাঝপথেই কেটে যাচ্ছে? এমন অভিজ্ঞতা আপনার একার নয়। আধুনিক জীবনে ইন্টারনেট এখন অক্সিজেনের মতোই জরুরি, কিন্তু অধিকাংশ বাড়িতেই রাউটারের সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে ইন্টারনেটের গতি তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

রাউটার কি অন্দরসজ্জার অংশ? সবচেয়ে বড় ভুলটি হয় রাউটার বসানোর জায়গা নির্বাচনে। ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হবে ভেবে অনেকেই রাউটারকে টিভি ক্যাবিনেটের ভেতরে, কাঠের আলমারির আড়ালে বা সোফার নিচে লুকিয়ে রাখেন। মনে রাখবেন, ওয়াই-ফাই সিগন্যাল তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের মতো বাতাসে ছড়ায়। এর সামনে দেওয়াল, কাঠ বা ভারী আসবাব থাকলে সিগন্যাল বাধা পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাউটার সবসময় বাড়ির মাঝামাঝি কোনো খোলা জায়গায় এবং মেঝে থেকে অন্তত ৪-৫ ফুট উচ্চতায় রাখা উচিত। এতে সিগন্যাল কোনো বাধা ছাড়াই পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গরম হওয়া মানেই বিপদ: ধুলোবালি থেকে বাঁচাতে অনেকেই রাউটারের ওপর সুন্দর রুমাল বা কাপড় ঢাকা দিয়ে রাখেন। এটি ইন্টারনেটের গতির জন্য ‘সাইলেন্ট কিলার’। এর ফলে যন্ত্রটির ভেতরে বাতাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং তা অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। সমীক্ষা বলছে, অতিরিক্ত উত্তাপ রাউটারের কার্যক্ষমতা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। তাই রাউটার সবসময় এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচল করে।

আশপাশে কী রাখছেন? আপনার রাউটারের পাশে যদি আয়না, ফ্রিজ, ধাতব আলমারি বা অ্যাকোয়ারিয়াম থাকে, তবে আজই তা সরিয়ে ফেলুন। ধাতব বস্তু এবং জল সিগন্যালকে শুষে নেয় বা ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা ব্লুটুথ স্পিকারের মতো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র একই ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করলে ইন্টারনেটে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সফটওয়্যার আপডেট ও রিস্টার্ট: স্মার্টফোনের মতো রাউটারেও নিয়মিত ‘ফার্মওয়্যার আপডেট’ প্রয়োজন। পুরনো সফটওয়্যার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি, সপ্তাহে অন্তত একদিন ১০ মিনিটের জন্য রাউটার বন্ধ রাখুন। এতে ইন্টারনাল সিস্টেম রিফ্রেশ হয় এবং ছোটখাটো বাগ নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। মনে রাখবেন, সঠিক যত্ন আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে।