মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শোকের ছায়া! বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করে চিরবিদায় নিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি (NCP) নেতা অজিত পাওয়ার। বুধবার সকালে বারামতীতে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার সময় ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। সকাল ৮:৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।
রাজনীতির পাঠ ও উত্থান: ১৯৮০-র দশকে কাকা শরদ পাওয়ারের হাত ধরেই রাজনীতির ময়দানে হাতেখড়ি হয়েছিল অজিত পাওয়ারের। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন স্রেফ ‘দাদা’। ১৯৯১ সালে বারামতী লোকসভা আসন থেকে প্রথম জয়লাভ করেন তিনি। তবে কাকার জন্য আসন ছেড়ে দিয়ে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন। এরপর থেকে টানা আটবার বারামতী বিধানসভা আসনে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
রেকর্ড ৬ বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী: অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক কেরিয়ার ছিল বর্ণময়। তিনি মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ৬ বার উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পৃথ্বীরাজ চহ্বান থেকে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, কিংবা উদ্ধব ঠাকরে থেকে একনাথ শিন্ডে—প্রতিটি সরকারেই তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। প্রায় আট বছর তিনি এই সামলিয়েছেন গুরুদায়িত্ব।
কাকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন: ২০২২ সালে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়, যার ফলে এনসিপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। অজিত পাওয়ার নিজের লক্ষ্য পূরণে একনাথ শিন্ডে ও বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করেন। রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে কাকা-ভাইপোর সম্পর্ক ছিল অটুট। সম্প্রতি স্থানীয় নির্বাচনেও তাঁদের একসঙ্গে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল।
বারামতীর মাটি থেকে মহারাষ্ট্রের মসনদ—অজিত পাওয়ারের চার দশকের সফর আজ স্তব্ধ হয়ে গেল। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো।