নয়ডার ‘ডেথম্যাচ’: ১২০ মিনিট যমে-মানুষে টানাটানি, চোখের সামনে ছেলের মৃত্যু দেখলেন বাবা! কাঠগড়ায় প্রশাসন

উত্তরপ্রদেশের গর্ব, হাই-টেক শহর নয়ডার ‘শো-উইন্ডো’র আড়ালে লুকিয়ে থাকা চরম অব্যবস্থা এবার আদালতের নজরে। ১৬ জানুয়ারি ১৫০ নম্বর সেক্টরে জলভরা গর্তে ডুবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা আদালত পুলিশ ও প্রশাসনকে তীব্র তিরস্কার করেছে। আদালতের সোজাসাপ্টা প্রশ্ন— “যদি ওই মরণফাঁদ সদৃশ গর্তের জন্য নয়ডা কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকে, তবে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কেন তাঁদের নাম চার্জশিটে নেই?”
১২০ মিনিটের সেই অভিশপ্ত রাত ঘটনাটি ছিল কোনো হরর সিনেমার চেয়েও ভয়ংকর। যুবরাজের গাড়িটি একটি নির্মীয়মাণ প্রকল্পের জলভরা গভীর গর্তে পড়ে যায়। গাড়ির ভেতর থেকে যুবরাজ নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। বাইরে তখন পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড এবং এসডিআরএফ-এর প্রায় ৮০ জন কর্মী উপস্থিত। যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা প্রত্যেক অফিসারের পায়ে ধরে তাঁর ছেলেকে বাঁচানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রবল শীত আর জলের নিচে লোহার রডের ভয়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের কেউই জলে নামার সাহস পাননি। উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য জলে নেমেও ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পালিয়ে আসেন। শেষমেশ এক সাধারণ ডেলিভারি বয়, মুনেন্দ্র সিং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জলে নামলেও ততক্ষণে সব শেষ। ১২০ মিনিট ধরে চলে যমে-মানুষের লড়াইয়ে হার মানেন যুবরাজ।
আদালতের ক্ষোভ ও তদন্তে গাফিলতি অভিযুক্ত নির্মাতাদের জামিন শুনানির সময় আদালত যখন তদন্তকারী অফিসারকে (IO) নির্মাতার জমা দেওয়া ৫০০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন করে, তিনি উত্তর দেন যে তিনি সেটি পড়েননি! তদন্তের এই ঢিলেমি দেখে আদালত ক্ষুব্ধ হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ওই গর্তটি ২০২১ সাল থেকে জলে ভরা ছিল এবং নয়ডা কর্তৃপক্ষ ফান্ড থাকা সত্ত্বেও তা মেরামত করেনি। নয়ডা কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের কোনো বড় আধিকারিক ঘটনার রাতে কেন স্পটে পৌঁছাননি, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বর্তমানে পুলিশ তিনজন নির্মাতাকে গ্রেপ্তার করলেও, আসল ‘খলনায়ক’ যে পরিকাঠামোগত গাফিলতি, তার দায় কে নেবে? মামলার পরবর্তী শুনানি ২৯ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি।