রাজ্যে পা রাখতেই নিতিন নবীনের মুখে উত্তম কুমার-বিদ্যাসাগর! ২০২৬-এর আগে বড় চাল বিজেপির?

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রথমবার বঙ্গ সফরে এলেন নিতিন নবীন। মঙ্গলবার বিকেলে অন্ডাল বিমানবন্দরে পা রাখার পর থেকেই তাঁর এই সফরকে ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। যদিও প্রকাশ্যে তিনি রাজনীতির বদলে বাংলার সংস্কৃতি আর মণীষীদের নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে— এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহানির্ভরযোগ্য রণকৌশল।
বাঙালি আবেগ ছুঁতে মরিয়া বিজেপি: অন্ডাল থেকে সোজা দুর্গাপুরের ‘কমল মেলা’র মঞ্চে পৌঁছান নিতিন নবীন। বক্তব্যের শুরুতেই স্পষ্ট বাংলায় বলেন, “বঙ্গভূমিকে আমি প্রণাম জানাই।” তাঁর ভাষণে বারবার উঠে আসে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির গায়ে সেঁটে থাকা ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলতেই দিল্লির নেতারা এখন বাংলার মণীষীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
কৌশলী নীরবতা ও সমবেদনা: এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি আক্রমণাত্মক স্লোগান দেননি নিতিন। বরং আনন্দপুরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মানবিক মুখ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে তিনি আদতে বিজেপির একটি ‘পজিটিভ ন্যারেটিভ’ বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করেছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আসল খেলা কি সন্ধ্যার বৈঠকে? প্রকাশ্যে সংযত থাকলেও, রাতের কর্মসূচিতেই লুকিয়ে আছে আসল চমক। রাতেই দুর্গাপুরে বিজেপির কোর কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সূত্রের খবর, সেখানে রাজ্যের জোন ভিত্তিক সাংগঠনিক রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখবেন নবীন। বঙ্গ বিজেপি নেতাদের পারফরম্যান্স যাচাই থেকে শুরু করে আগামীর রোডম্যাপ— সবই চূড়ান্ত হতে পারে এই বৈঠকে।
অর্থাৎ, মুখে মণীষীদের কথা আর মনে ২০২৬-এর অঙ্ক; নিতিন নবীনের প্রথম বঙ্গ সফর এই দুইয়ের মিশেলে এক গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করছে।