রোহিত ভেমুলা থেকে পায়েল তাদভি: দুই ছাত্রের মৃত্যুতে বদলালো UGC-র নিয়ম, মিথ্যা অভিযোগে আর নেই শাস্তি

ভারতীয় উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ইউজিসি (UGC) জারি করল ‘ইকুইটি রেগুলেশন ২০২৬’। ২০১৬ সালে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহিত ভেমুলা এবং ২০১৯ সালে মুম্বইয়ের চিকিৎসক পড়ুয়া পায়েল তাদভির মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর, তাঁদের মায়েদের করা আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। তবে এই নতুন নিয়ম ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক।

মিথ্যা অভিযোগে শাস্তির বিধান প্রত্যাহার: কেন এই বিতর্ক? নতুন নির্দেশিকার সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো—যদি কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। খসড়া নিয়মে শাস্তির কথা বলা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসি-র যুক্তি, শাস্তির ভয় থাকলে নিগৃহীত পড়ুয়ারা অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারেন। অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, এর ফলে সাধারণ বিভাগের পড়ুয়ারা হেনস্থার শিকার হতে পারেন এবং আইনের অপব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়বে।

কী কী থাকছে নতুন নিয়মে? ১. ইক্যুইটি কমিটি ও ইক্যুইটি সেন্টার: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে একটি ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ এবং ‘ইক্যুইটি কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক। ২. ২৪×৭ হেল্পলাইন: শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল এবং হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে। ৩. কঠোর নজরদারি: এসসি, এসটি, ওবিসি এবং বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ৪. শাস্তি: কোনো প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম না মানলে তাদের অনুদান বন্ধ, নতুন কোর্স চালুতে নিষেধাজ্ঞা এমনকি স্বীকৃতি পর্যন্ত বাতিল করতে পারে ইউজিসি।

ইতিমধ্যেই এই আইনকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে উত্তরপ্রদেশের বরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্কার অগ্নিহোত্রী পদত্যাগ করেছেন, যদিও সরকার তাঁকে বরখাস্ত করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ‘বর্ণ-ভিত্তিক বৈষম্য’-এর সংজ্ঞায় কেবল সংরক্ষিত শ্রেণির কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণ বিভাগের প্রতি অন্যায্য। শিক্ষা মন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট বিভাগকে বাদ দেওয়া হয়নি, ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে শীঘ্রই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হবে।