দক্ষিণ দিনাজপুরে রেল বিপ্লব! মোদী সরকারের মেগা সিদ্ধান্তে খুশির জোয়ার, জেলাবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবের পথে। গাজোল–ইটাহার–বুনিয়াদপুর রেললাইন প্রকল্পে অবশেষে মিলল চূড়ান্ত সবুজ সংকেত। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্র প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে। দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এই নতুন রেলপথের হাত ধরে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই প্রকল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সরব ছিলেন। বারবার কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করার পর তাঁর প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রেলমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই রেললাইন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। নতুন রেলপথ চালু হলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ সরাসরি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবেন, যা অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও গতি আনবে।”

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও আপডেট:

বুনিয়াদপুর-কালিয়াগঞ্জ সংযোগ: নতুন এই রেলপথের মাধ্যমে বুনিয়াদপুর ও কালিয়াগঞ্জ সরাসরি যুক্ত হবে, যা স্থানীয় যাতায়াতকে বহুগুণ সহজ করে দেবে।

শিলিগুড়ি সংযোগ: দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ও আশেপাশের এলাকাগুলি সরাসরি শিলিগুড়ির সাথে যুক্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বড় সুবিধা মিলবে।

৬১টি মেগা প্রকল্প: উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের রেল পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে ৬১টি প্রকল্পের অধীনে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

হিলি-বালুরঘাট রেলপথ: বালুরঘাট-হিলি সংযোগের কাজও দ্রুত গতিতে চলছে, যা সীমান্ত বাণিজ্যে মাইলফলক হতে চলেছে।

এই নতুন রেল পরিকাঠামো কেবল যাতায়াত নয়, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে শিলিগুড়ি ও কলকাতার দূরত্বও মানসিক ও ভৌগোলিক ভাবে কমিয়ে আনবে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লড়াই আজ সার্থক হতে চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।