১৫-র নিচে সোশ্যাল মিডিয়ায় নো এন্ট্রি! ঐতিহাসিক বিল পাশ ফ্রান্সে, অমান্য করলেই কড়া শাস্তি?

ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিল ফ্রান্স। সে দেশের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ঐতিহাসিক বিলটি পাশ হয়েছে। অনলাইন বুলিং, স্ক্রিন আসক্তি এবং কিশোর-কিশোরীদের ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রশাসন। এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধ চালু করবে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই পদক্ষেপকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়, তাদের স্বপ্ন অ্যালগরিদমের হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।” বিজ্ঞানীরাও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, উদ্বিগ্ন ও আসক্ত প্রজন্মের বদলে প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা। বিলটির পক্ষে ১১৬ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন, যেখানে বিপক্ষে পড়েছে মাত্র ২৩টি ভোট। এখন এটি সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মেয়র এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চাইছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরু অর্থাৎ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে। তবে এই আইন প্রয়োগ করা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে প্রশাসনকে। বয়সের সঠিক যাচাইকরণ বা ‘এজ ভেরিফিকেশন’ নিশ্চিত করতে প্রতিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর আইন মেনে চলতে হবে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নয়, যে কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ফিচার’ ব্যবহারেও ১৫-র কম বয়সিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে ম্যাক্রোঁ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাড়তে থাকা হিংসা ও উদ্বেগের মূল কারণ হলো অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। যদিও এই নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ, তবুও ফরাসি সরকারের দাবি—শিশুদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন।