সিঙ্গুরে পা রাখছেন মমতা, ২০ বছর পরেও বিচারের আশায় তাপসী মালিকের বাবা! কী চাইলেন তিনি?

সিঙ্গুর। বাংলার রাজনীতির পালাবদলের এক ইতিহাস। যে মাটির আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাইটার্স থেকে নবান্নের ক্ষমতায় বসিয়েছিল, সেই মাটির অন্যতম মুখ ছিল কিশোরী তাপসী মালিক। আজ ২০ বছর অতিক্রান্ত। সামনেই আরও একটা নির্বাচন। বুধবার ফের সিঙ্গুরে পা রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজনীতির এই ডামাডোলের মাঝে আজও বিচার খুঁজে চলেছেন সেই অভাগা বাবা— মনোরঞ্জন মালিক।

অপেক্ষার ২০ বছর: ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর। সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল সাধারণ মানুষ। সেই জমি আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিল কিশোরী তাপসী। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদলের মদতপুষ্টদের হাতে গণধর্ষণ ও নৃশংস খুনের শিকার হতে হয় তাঁকে। সিঙ্গুরের সেই ধোঁয়া ওঠা ছাইয়ের স্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছিল তাপসীর ঝলসে যাওয়া দেহ। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের অন্যতম অস্ত্র ছিল এই ঘটনা।

ভোট আসে, বিচার আসে না: ভোটের মুখে সিঙ্গুর আবারও রাজনৈতিক রণক্ষেত্র। কয়েকদিন আগেই সেখানে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, এবার যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মনোরঞ্জন মালিকের আক্ষেপ, “ভোট মিটলে কি কেউ কথা রাখে?” প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর তাপসীর মূর্তিতে মালা পড়ে, শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তর্জা হয়, কিন্তু আসল বিচার আজও অধরা। এই মামলায় নাম জড়িয়েছিল সিপিএম নেতা সুহৃদ দত্ত ও কর্মী দেবু মালিকের। সুহৃদ দত্তের মৃত্যু হয়েছে, দেবু মালিক জামিনে মুক্ত। কিন্তু মামলার জট খোলেনি।

নবান্নে বসলেও মেলেনি স্বস্তি: সিঙ্গুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টাটারা কারখানা সরিয়ে নিয়ে গেছে, কৃষকরা জমিও ফেরত পেয়েছেন। কিন্তু মেয়ের খুনিরা সাজা পায়নি— এই আক্ষেপ বুকে নিয়েই আজও দিন কাটান মনোরঞ্জন বাবু। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে তাঁর একটাই প্রশ্ন, “আর কত বছর অপেক্ষা করলে আমার মেয়ে বিচার পাবে?”