পতাকা নামাতে গিয়েই সব শেষ! ওড়িশায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু দশম শ্রেণির ছাত্রের

প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপনের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে পরিণত হলো। কোচিং সেন্টারে উত্তোলিত জাতীয় পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারাল দশম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্র। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলায়। মৃত ছাত্রের নাম ওমপ্রকাশ দ্বিবেদী। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওমপ্রকাশ আদতে কেন্দ্রপাড়া জেলার বাসিন্দা হলেও পড়াশোনার খাতিরে জগৎসিংপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকত। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে তার প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের ছাদে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। একটি লম্বা লোহার পাইপে জাতীয় পতাকাটি বাঁধা ছিল। নিয়ম মেনে সূর্যাস্তের আগে সন্ধ্যায় যখন ওমপ্রকাশ ওই পতাকাটি নামাতে যায়, তখনই ঘটে চরম বিপত্তি। লোহার পাইপটি সরাবার সময় অসাবধানতাবশত সেটি ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎবাহী তারের (Overhead Wire) সংস্পর্শে চলে আসে।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সাথে সাথেই ওমপ্রকাশ অচৈতন্য হয়ে পড়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই কোচিং সেন্টারের মালিক অশ্বিনী কুমার নন্দকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। কেন বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের তারের নিচে পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তেলেঙ্গানায় অটো থেকে পড়ে ছাত্রীর মৃত্যু: প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনেই অন্য একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তেলেঙ্গানার এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। একটি গুরুকুল স্কুলের অনুষ্ঠানের জন্য অটোতে করে চেয়ার নিয়ে যাওয়ার সময় চলন্ত অটো থেকে ছিটকে পড়ে যায় ওই ছাত্রী। মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং দুর্ঘটনার পর ছাত্রীকে উদ্ধার না করেই অটো নিয়ে চম্পট দিয়েছিলেন। পরে পুলিশ ওই ঘাতক অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে।