ট্রেন লেট হওয়ায় মিস পরীক্ষা! রেলকে দিতে হলো ৯ লক্ষ টাকা জরিমানা, জানুন কীভাবে

ভারতীয় রেলের পরিষেবার গাফিলতির জেরে বড়সড় বিপাকে পড়ল কর্তৃপক্ষ। ট্রেনের দেরি হওয়ার কারণে এক ছাত্রী তাঁর প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে পারেননি, যার মাশুল হিসেবে এখন রেলকে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উত্তরপ্রদেশের বাস্তি জেলার এই ঘটনাটি যাত্রী অধিকার ও রেলের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০১৮ সালের ৭ মে। বাস্তি জেলার বাসিন্দা ওই ছাত্রী লখনউয়ের জয়নারায়ণ পিজি কলেজে বিএসসি বায়োটেকনোলজির প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এক বছরের কঠোর পরিশ্রমের পর এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। সময়মতো লখনউ পৌঁছানোর জন্য তিনি ‘ইন্টারসিটি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস’-এর টিকিট কাটেন। ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী সকাল ১১টার মধ্যে তাঁর গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বিধি বাম! সুপারফাস্ট নাম হলেও ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর লখনউ পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তাঁকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ আইনি লড়াই: একটি পুরো বছর নষ্ট হওয়া এবং মানসিক অবসাদের কারণে ওই ছাত্রী রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলা উপভোক্তা কমিশনে মামলা দায়ের করেন। তিনি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। রেলের পক্ষ থেকে এই বিলম্বের সপক্ষে কোনো জোরালো যুক্তি বা সঠিক উত্তর পেশ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলে এই আইনি লড়াই। অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন সেই ছাত্রী।
আদালতের রায়: জেলা উপভোক্তা কমিশন তার রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সময়মতো পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হওয়া রেলের একটি বড় ত্রুটি। ছাত্রীর শিক্ষাগত ও মানসিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে আদালত রেলকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ওই ছাত্রীকে ৯ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করা হয়, তবে রেলকে ওই অর্থের ওপর ১২ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদও প্রদান করতে হবে।
এই ঐতিহাসিক রায় সাধারণ যাত্রীদের মনে আশা জাগিয়েছে যে, রেলের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে আইনি প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।