বিলাসবহুল ডিনারের পরই জ্ঞান হারালেন তরুণী, দিল্লির নামী হোটেলের খাবারে কি খুনের ছক?

দেশের রাজধানীর বুকে এক হাড়হিম করা ঘটনা। ভাবুন তো, কোনো এক ক্লান্ত সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে ৫ তারা হোটেলের বিলাসবহুল পরিবেশে ডিনার করতে বসেছেন, আর সেই খাবারই আপনার কাল হয়ে দাঁড়াল! দিল্লির এক অভিজাত হোটেলে খাবার খাওয়ার পরেই এক মহিলার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে হোটেলের খাবারের দিকে—দাবি করা হচ্ছে, খাবারে মেশানো ছিল প্রাণঘাতী বিষ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আতঙ্ক: গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বর্তমানে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগকারিনী মহিলা জানান, খাবার খাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন এবং জ্ঞান হারান। তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা বিষক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখতে পান। এর পরেই বিষয়টি পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের কানে। প্রশ্ন উঠছে, যে সুরক্ষার জন্য মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করেন, সেই ৫ তারা হোটেলেই কি এখন প্রাণ সংশয়?

তদন্তে দিল্লি পুলিশ ও ফরেনসিক দল: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত মাঠে নেমেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। অভিযুক্ত হোটেল থেকে মহিলার খাওয়া ১৬টি ভিন্ন খাবার ও পানীয়ের নমুনা (Food and Liquid Samples) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতিটি নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় সেখানে বিষাক্ত কিছু মেশানো ছিল কি না। ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আইনি প্যাঁচে হোটেল কর্তৃপক্ষ: এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির (BNS) ধারা ২৮৬-এর অধীনে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই ধারাটি মূলত কোনো বিপজ্জনক বা বিষাক্ত পদার্থ অবহেলার সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, যা অন্যের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। যদি ফরেনসিক রিপোর্টে বিষের উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে হোটেলের লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে হোটেল কর্তৃপক্ষকে।

ষড়যন্ত্র নাকি গাফিলতি? দিল্লির মতো শহরে যেখানে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কড়াকড়ি থাকে, সেখানে এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এটি কি কেবলই পচা বা বাসি খাবার থেকে হওয়া বিপত্তি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র? কোনো শত্রু কি ইচ্ছা করেই মহিলার খাবারে বিষ মিশিয়েছিল? তদন্তকারী অফিসাররা সব দিক খতিয়ে দেখছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত ধোঁয়াশা কাটছে না। আপাতত বিলাসবহুল হোটেলের আভিজাত্য ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের আতঙ্ক।