‘কাল সকালের মধ্যে সব হিন্দু ঘরে ধ্বজ চাই!’ নন্দীগ্রামে রণমূর্তি শুভেন্দু অধিকারীর

নন্দীগ্রামের রানিচকে সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। শনিবার রাতে হরিজন পাড়ায় বিজেপি সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনার পর, সোমবার সরাসরি ময়দানে নামলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি এক গুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করেছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কাল সকালের মধ্যে এলাকার প্রতিটি হিন্দু ঘরে গেরুয়া ধ্বজ লাগাতে হবে। জেহাদি ও মৌলবাদীদের থেকে আমাদের আলাদা করতে হবে।” শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি কোণে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি এবং সাফ জানিয়েছেন এর জন্য যাবতীয় খরচ তিনি নিজে বহন করবেন। এছাড়া সব মন্দিরে মাইক লাগানো এবং শাঁখ বিতরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “মহিলাদের ওপর কীভাবে হামলা হয়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী এসে দেখে যান। নিজেকে বাংলার মেয়ে বলেন, অথচ তাঁর দলের লোকই মহিলাদের মারধর করছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল এই হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। রানিচকে সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর থেকেই এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। তৃণমূল নেতা শেখ কাজেহার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “২০২৬-এর নির্বাচনে ওদের শান্তিকুঞ্জে (শুভেন্দুর বাড়ি) কাঁধে করে পৌঁছে দিয়ে আসব।” সমবায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাথা ফাটা থেকে শুরু করে চোখে গুরুতর আঘাত—রক্তাক্ত রানিচক এখন থমথমে। শুভেন্দুর এই ‘ধ্বনি’ ও ‘ধ্বজ’ মন্তব্য নন্দীগ্রামের মাটিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের বিতর্ককে আরও উস্কে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।