বাংলায় কতটা ছড়িয়েছে নিপা ভাইরাস, জেনেনিন কেন অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এর প্রকোপ?

পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের প্রবেশ ঘটতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বারাসতের দুই নার্স এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে আক্রান্তদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন দার্জিলিং টিবি হাসপাতালের সুপারিন্টেনডেন্ট তথা স্বাস্থ্য দপ্তরের পদস্থ আধিকারিক ডা: সুবর্ণ গোস্বামী।

ডা: গোস্বামী জানান, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’জন নার্সের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে বিপদ কাটেনি। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১৯০ জনকে চিহ্নিত করে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে যাদের শরীরে সামান্যতম উপসর্গ দেখা গিয়েছিল, তাদের সোয়াব টেস্ট করানো হয়েছে। স্বস্তির খবর এই যে, এখনও পর্যন্ত ওই ১৯০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ, সংক্রমণ আপাতত ওই দুই নার্সেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কিন্তু এখনই আত্মতুষ্টির জায়গা নেই বলে সতর্ক করেছেন এই বিশিষ্ট চিকিৎসক। তিনি বলেন, “নিপা ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার সময়কাল ৪ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। তাই এখনই বলা যাবে না যে সংক্রমণ আর ছড়াবে না।” স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী, টানা তিন মাস এই ১৯০ জনের ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে আর কেউ আক্রান্ত না হন, তবেই রাজ্যকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে।

নিপা ভাইরাসকে কেন ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা: সুস্বামী তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন: ১. এই রোগের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। ২. নিপার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। ৩. এর মৃত্যুহার বা ‘কেস ফ্যাটালিটি রেশিও’ (CFR) অত্যন্ত ভয়াবহ।

ইতিহাস বলছে, ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে যখন নিপা হানা দিয়েছিল, তখন মৃত্যুহার ছিল ৭৫ শতাংশ। আবার নদীয়ার সংক্রমণে মৃত্যুহার পৌঁছে গিয়েছিল ১০০ শতাংশে! অর্থাৎ আক্রান্তদের কারোরই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কেরালায় ৯ বার এই ভাইরাস হানা দিয়েছে এবং সেখানেও মৃত্যুহার ৯০ শতাংশের উপরে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে নিপা কতটা প্রাণঘাতী। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে বাদুড়ে খাওয়া ফল না খাওয়ার এবং সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।