রাষ্ট্রপতির ঘোড়ার গাড়ি কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তান, রাজকীয় সওয়ারির নেপথ্যের ইতিহাস জানেন?

২০২৬-এর কুয়াশাভেজা সকালে দিল্লির কর্তব্য পথে যখন রাজকীয় ঘোড়ায় টানা ‘বাগ্গি’তে চড়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পৌঁছলেন, তখন আরও একবার ইতিহাস ফিরে এল রাইসিনা হিলসে। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতির সহযাত্রী ছিলেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দের লায়েন। কিন্তু এই ৬ ঘোড়ায় টানা কালো রঙের রাজকীয় যানের নেপথ্যে রয়েছে এক অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক কাহিনী, যেখানে একটি মুদ্রার টসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ‘গোহারা’ হারিয়েছিল ভারত।
ব্রিটিশ আমলে ভারতের ভাইসরয়রা এই বিলাসবহুল বাগ্গি ব্যবহার করতেন। দেশভাগের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন সম্পত্তি ভাগাভাগি চলছিল, তখন এই বিশেষ বাগ্গিটির ওপর নজর ছিল পাকিস্তানেরও। মালিকানা কার হবে তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রবল দড়ি টানাটানি শুরু হয়। শেষমেশ সমাধান বের করতে অভিনব ‘টসের’ সাহায্য নেওয়া হয়। ভারতের পক্ষে কর্নেল ঠাকুর গোবিন্দ সিং এবং পাকিস্তানের পক্ষে শাহজাদা ইয়াকুব খান টসে অংশ নেন। ভারত সেই টসে জিতে যেতেই রাজকীয় এই বাগ্গিটি পাকাপাকিভাবে ভারতের জিম্মায় চলে আসে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ১৯৮৪ সাল থেকে টানা ৪০ বছর এই বাগ্গির ব্যবহার বন্ধ ছিল। রাষ্ট্রপতির জন্য বরাদ্দ হয়েছিল বুলেটপ্রুফ লিমোজিন। তবে ২০২৪ সালে মোদী সরকার সেই ব্রিটিশ আমলের আভিজাত্য ফিরিয়ে আনে। গত তিন বছর ধরে দ্রৌপদী মুর্মু এই ঐতিহাসিক বাগ্গিতে চেপেই প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে যোগ দিচ্ছেন। সোনালী নকশা আর ভেলভেটে মোড়া এই বাগ্গিটি আজ কেবল একটি যানবাহন নয়, বরং দেশভাগের সেই রুদ্ধশ্বাস জয়ের এক জীবন্ত প্রতীক।