অশোক চক্রে সম্মানিত মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্লা! গ্যালারিতে স্ত্রীর চোখের জল আর গর্বের হাসি ছুঁয়ে গেল দেশবাসীকে

২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকল। একদিকে যেমন দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ চলল, ঠিক তেমনই শান্তিকালীন সময়ের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘অশোক চক্র’ প্রদান করা হলো গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লাকে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে দর্শকাসনে বসে থাকা তাঁর স্ত্রী ডা. কামনা শুক্লার হাসিমুখের ছবি এখন নেটপাড়ায় ভাইরাল। স্বামীর এই সাফল্যে কামনার চোখে দেখা গেল আনন্দ আর এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের তৃপ্তি।

মহাকাশ থেকে রাজপথ: এক অদম্য লড়াই গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা সম্প্রতি ‘এক্সিয়ম ৪’ (Axiom-4) মিশনের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৪ দিন কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরেছেন। এই মিশনের জন্য তাঁকে দীর্ঘ এক বছর কঠিন প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে এবং পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এমনকি মহাকাশে যাওয়ার আগে দু-মাস কোয়ারেন্টিনেও ছিলেন তিনি। শুভাংশু যখন ফিরে আসেন, তখন স্ত্রী কামনা ও ছেলে কিয়াংশ আমেরিকায় গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলেন— সেই আবেগঘন ভিডিও আজও দেশবাসীর মনে টাটকা।

তৃতীয় শ্রেণি থেকে অশোক চক্র— দীর্ঘ পথ চলা শুভাংশু এবং কামনার প্রেমের গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। লখনউয়ের সিটি মন্টেশরি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি থেকে তাঁরা একসাথে পড়াশোনা করেছেন। দীর্ঘ বন্ধুত্বের পর ২০০৯ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পেশায় দন্তচিকিৎসক কামনা লখনউতেই শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকেন। তিনি জানান, শুভাংশু ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ছিলেন, কিন্তু মহাকাশে ওড়ার স্বপ্ন তাঁর দুচোখে সব সময় জ্বলজ্বল করত।

কারগিল যুদ্ধই ছিল অনুপ্রেরণা ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ কিশোর শুভাংশুকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছিল যে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি এনডিএ-তে (NDA) নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে বায়ুসেনার পাইলট হিসেবে কমিশন পাওয়ার পর তিনি মিগ-২১, সুখোই-৩০ এমকেআই এবং জাগুয়ারের মতো ঘাতক ফাইটার জেট উড়িয়েছেন। ২ হাজার ঘণ্টারও বেশি ওড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই দক্ষ পাইলট আজ ভারতের গর্ব।