নীরব ঘাতক! জঙ্ক ফুড থেকে স্ট্রেস— এভাবেই তিলে তিলে শেষ হচ্ছে আপনার লিভার, সাবধান না হলে বিপদ!

আপনার শরীরের ‘পাওয়ার হাউস’ বা লিভার বিপদের মুখে! আধুনিক যুগের দ্রুত গতির জীবনযাত্রা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আমাদের অজান্তেই শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে বিকল করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ভারতে হু হু করে বাড়ছে ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (NAFLD)। অবাক করা বিষয় হলো, লিভারের এই মারণ রোগ এখন আর কেবল মদ্যপায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
কেন নীরবে দুর্বল হচ্ছে লিভার? আমাদের লিভার রক্ত পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে মেটাবলিজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত খাবার (Processed Food), অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এবং রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট লিভারের ওপর অসহ্য চাপ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত গ্লুকোজ যখন লিভারে চর্বি হিসেবে জমা হতে থাকে, তখনই শুরু হয় আসল সমস্যা।
স্ট্রেস ও ঘুমের অভাব: লিভারের যম! অনেকেই ভাবেন কেবল খাবারই লিভার নষ্ট করে, কিন্তু মানসিক চাপ বা স্ট্রেসও এর জন্য দায়ী। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের ফলে শরীরে ‘কর্টিসল’ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে লিভারের ক্ষতি করে। এ ছাড়া, দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে লিভার নিজেকে সারিয়ে তোলার (Repair) সময় পায় না, ফলে মেটাবলিক ডিসঅর্ডার দেখা দেয়।
যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে চললে পস্তাতে হবে: ১. দিনভর প্রচণ্ড ক্লান্তি অনুভব করা। ২. পেটের মাঝখানে বা কোমরের চারপাশে মেদ জমা। ৩. ঘনঘন গ্যাস ও বদহজমের সমস্যা। ৪. স্মৃতিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া (Brain Fog)। ৫. পেটের ডানদিকে মাঝেমধ্যে হালকা ব্যথা।
প্রাথমিক অবস্থায় রক্ত পরীক্ষায় ধরা না পড়লেও, এই উপসর্গগুলোই লিভার নষ্ট হওয়ার আগাম বার্তা দেয়। তাই দেরি না করে আজই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, লিভার ভালো থাকলে তবেই আপনি নিরোগ থাকবেন।