হাসতে গেলেও খরচ! রুপোর দামে আগুন লাগতেই মহার্ঘ্য ‘ডেন্টাল ফিলিং’, দাঁতের চিকিৎসায় পকেটে টান মধ্যবিত্তের!

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম যে হারে বাড়ছে, তার প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়ল সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। গয়নার দোকান ছাড়িয়ে রুপোর তেজ এখন পৌঁছে গিয়েছে ডেন্টাল ক্লিনিকে। রুপোর দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দাঁতের ‘ফিলিং’ বা ক্যাভিটি সারানোর খরচ এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। রাজস্থানের বিকানের সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পকেটে টান পড়ছে সাধারণ মানুষের।

কেন দাঁতের চিকিৎসায় লাগে রুপো? চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের গর্ত বা ক্যাভিটি ভরতে ‘সিলভার অ্যামালগাম’ (Silver Amalgam) বা তরল রুপোর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। রুপোর স্থায়িত্ব বেশি এবং এটি জীবাণুরোধী। ফলে দাঁতের ফিলিং দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইনফেকশনের ভয় থাকে না। কিন্তু রুপোর বাজার দর বাড়ায় এই ফিলিং উপকরণের দামও নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।

১ হাজারের ওষুধ এখন ৬ হাজার টাকা! আগে ডেন্টাল সার্জনরা যে রুপোর শিশি ১,০০০ টাকায় কিনতেন, এখন তার বাজার দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,০০০ টাকা। ৩০ গ্রামের একটি উন্নত মানের সিলভার অ্যামালগাম শিশিতে প্রায় ২১ গ্রাম খাঁটি রুপো থাকে। আগে এই শিশি ৪,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, যা এখন ৬,০০০ টাকার গণ্ডি পার করেছে। ফলে চিকিৎসকরাও বাধ্য হয়ে ফিলিং করার ফি ২ থেকে ৩ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।

চিকিৎসা এড়ানোর প্রবণতা বিকাশমান এই দামের কারণে বহু রোগী এখন দাঁতের চিকিৎসা করাচ্ছেন না। দন্তচিকিৎসক ড. রঞ্জন মাথুর জানান, ফিলিং পিছু খরচ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় রোগীরা রুপোর দাম কমার অপেক্ষা করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, খরচ বাঁচাতে চিকিৎসা দেরি করলে দাঁতের সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অস্ত্রোপচারের দিকে নিয়ে যেতে পারে।