আর কোনোদিন তৈরি হবে না ‘শোলে’, মায়ানগরীতে আবেগঘন পুনর্মিলনে কেন এমন আক্ষেপ রমেশ সিপ্পির?

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘শোলে’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি একটি মহাকাব্য। গব্বর সিংয়ের আতঙ্ক, জয়-বীরুর বন্ধুত্ব আর বসন্তীর চঞ্চলতা আজও কোটি কোটি দর্শকের মনে অমলিন। সেই ঐতিহাসিক সৃষ্টির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি মায়ানগরী মুম্বইতে বসেছিল চাঁদের হাট। ‘সোসাইটি অ্যাচিভার্স’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে দীর্ঘ পাঁচ দশক পর এক মঞ্চে ধরা দিলেন কিংবদন্তি পরিচালক রমেশ সিপ্পি এবং বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনী।

পরিচালকের দ্বিধা ও হেমার সমর্পণ অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উঠে এল ‘শোলে’র কাস্টিংয়ের অজানা গল্প। রমেশ সিপ্পি জানান, যখন ছবির কাস্টিং চলছিল, তখন হেমা মালিনী খ্যাতির মধ্যগগনে। একঝাঁক মহাতারকায় ঠাসা ছবিতে হেমা ‘বাসন্তী’র মতো একটি চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে খোদ পরিচালকই সংশয়ে ছিলেন। ইতস্তত বোধ করছিলেন তাঁকে প্রস্তাব দিতে। কিন্তু হেমা তাঁর ‘তারকা ইমেজ’ সরিয়ে রেখে পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আস্থা রাখেন। কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি সম্মতি দেন, যা পরবর্তীতে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

৫৯ বছর আগের সেই পরিশ্রম ও বিশ্বাস হেমা মালিনী জানান, সে সময় চলচ্চিত্র নির্মাণ আজকের মতো প্রযুক্তিগতভাবে সহজ ছিল না। এর পেছনে জড়িয়ে ছিল হাড়ভাঙা খাটুনি আর সৃজনশীল বিশ্বাস। রমেশ সিপ্পিও কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন যে, হেমা মালিনী থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন বা ধর্মেন্দ্র—ছবির প্রতিটি শিল্পী তাঁদের কাজের প্রতি চরম বিশ্বস্ত ছিলেন বলেই ‘শোলে’ তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। পরিচালক আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ম্যাজিক আর দ্বিতীয়বার তৈরি করা সম্ভব নয়।

স্মৃতির ক্যানভাসে ড্রিম গার্ল অনুষ্ঠানে রমেশ সিপ্পি এবং তাঁর স্ত্রী কিরণ জুনেজার উপস্থিতিতে ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ উন্মোচন করেন হেমা। ৫০ বছর পার করেও তাঁদের এই সখ্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানস্থলে এক আলাদা গ্ল্যামার ছড়িয়ে দিয়েছিল। প্রযুক্তির যুগে সিনেমা অনেক বদলেছে, কিন্তু ‘শোলে’ আজও প্রমাণ করে যে, সঠিক গল্প আর বলিষ্ঠ পরিচালনা থাকলে তা যুগের পর যুগ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। ৫০ বছর আগের সেই কালজয়ী রসায়ন মায়ানগরীর এই সন্ধ্যায় যেন আরও একবার জীবন্ত হয়ে উঠল।