পাহারা দাও সংবিধান! প্রজাতন্ত্র দিবসে মোদির ‘বিকশিত ভারত’-এর পাল্টা মমতার ‘সতর্কবাণী’

আজ সোমবার, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। একদিকে দিল্লির কর্তব্যপথে যখন ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ভারতের সামরিক ও সাংস্কৃতিক শৌর্য প্রদর্শিত হচ্ছে, ঠিক তখনই কলকাতার রাজপথ থেকে সংবিধান রক্ষার কড়া বার্তা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার ডাক দিচ্ছেন, তখন মমতার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘গণতন্ত্র বিপন্ন’ হওয়ার আশঙ্কা।
মোদির বার্তা: বিকশিত ভারতের সংকল্প এদিন সকালে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারতের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক এই উৎসব আপনাদের জীবনে নতুন শক্তি সঞ্চার করুক।” তিনি দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার সংকল্পে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান। সংস্কৃত শ্লোকের মাধ্যমে তিনি ঐক্য ও স্বাধীনতার মেলবন্ধন তুলে ধরেন। দিল্লির কুচকাওয়াজে এদিন উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও।
মমতার তোপ: ‘সংবিধান রক্ষায় সজাগ থাকুন’ তবে উৎসবের আবহেও মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় ছিল কড়া রাজনৈতিক সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে সংবিধানের প্রস্তাবনার চার স্তম্ভ—ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং সৌভ্রাতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বর্তমান মেরুকরণের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে তিনি জোর দেন বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল তাঁর সতর্কবাণী। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার মূল্য হলো নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ‘যৌথ সতর্কতা’র এই ডাক আদতে সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সজাগ করার একটি কৌশল। বিশেষ করে সিএএ (CAA) বা এনআরসি (NRC) নিয়ে যে ভীতি রাজ্যে রয়েছে, তার মোকাবিলায় ‘জনগণের সতর্কতা’কেই ঢাল করতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
রেড রোডে বর্ণাঢ্য উদযাপন দিল্লির পাশাপাশি কলকাতার রেড রোডেও সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ট্যাবলো প্রদর্শনী এবং কুচকাওয়াজে সেজে উঠেছে তিলোত্তমা। তবে ট্যাবলোর চাকচিক্যের আড়ালে আজ সংবিধান রক্ষার লড়াইটাই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় প্রধান হয়ে উঠেছে।
আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর দলের প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে সংবিধান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা। স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জওয়ানদের কুর্নিশ জানালেও, তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের সাধারণ নাগরিক—যাঁদের ওপর গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত ভার অর্পণ করেছেন তিনি।