বক্ষবন্ধনীতে কি ওটা? বিমানবন্দরের কড়া নিরাপত্তায় ধরা পড়ল মহিলার ‘স্তনের রহস্য’, দেখে চক্ষু চড়কগাছ আধিকারিকদের!

প্রযুক্তির যুগে পাচারকারীরা প্রতিদিন নিত্যনতুন এবং অদ্ভুত সব উপায় বের করছে। এবার যে ঘটনাটি সামনে এল, তা শুনে রীতিমতো হতবাক দুঁদে গোয়েন্দারাও। এক মহিলা পাচারকারী তাঁর অন্তর্বাস বা বক্ষবন্ধনীকে (Bra) ব্যবহার করলেন কচ্ছপ পাচারের আস্তানা হিসেবে! কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের তীক্ষ্ণ নজরে ধরা পড়ে গেলেন ওই নারী।

স্বাভাবিক দর্শনের আড়ালে গভীর ষড়যন্ত্র বিমানবন্দরে আর পাঁচজন মহিলা যাত্রীর মতোই স্বাভাবিক পোশাকে হাজির হয়েছিলেন ফ্লোরিডার ওই বাসিন্দা। অন্তর্বাসের ওপর সাধারণ পোশাক থাকায় বাইরে থেকে সন্দেহ করার মতো কিছুই ছিল না। মহিলা ভেবেছিলেন, তাঁর স্তনের স্বাভাবিক গঠনের আড়ালে লুকিয়ে রাখা নিষিদ্ধ বস্তু কারও নজরে আসবে না। কিন্তু আধুনিক স্ক্যানার এবং অভিজ্ঞ নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়ানো যে অসম্ভব, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।

ব্রা-এর নিচ থেকে উদ্ধার জ্যান্ত কচ্ছপ তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় কর্মকর্তাদের। দেখা যায়, ওই মহিলা তাঁর ব্রা-এর দুই ধারে দুটি জ্যান্ত কচ্ছপ লুকিয়ে রেখেছিলেন। কচ্ছপ দুটিকে প্লাস্টিক এবং টেপ দিয়ে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো হয়েছিল যাতে তারা নড়াচড়া করতে না পারে এবং বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা স্তনের মতোই লাগে। কিন্তু ওইভাবে প্লাস্টিকবন্দি অবস্থায় থাকার ফলে একটি কচ্ছপ দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। অন্যটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন কর্মীরা।

হতবাক নিরাপত্তা আধিকারিকরা ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (TSA)-এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা এর আগে বহুবার সোনা বা ড্রাগ পাচারের অদ্ভুত সব পদ্ধতি দেখেছেন, কিন্তু কোনো নারী তাঁর অন্তর্বাসকে কচ্ছপ পাচারের জন্য এভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তা তাঁদের ভাবনার বাইরে ছিল। মহিলাদের স্বাভাবিক শারীরিক গঠনকে কাজে লাগিয়ে এই ধরনের ‘ক্রিয়েটিভ’ অপরাধ দেখে তাঁরা কার্যত স্তম্ভিত।

ইতিমধ্যেই ওই মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কচ্ছপ পাচারের এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, অপরাধী যত বড়ই চালাক হোক না কেন, প্রযুক্তির কাছে সে হার মানতে বাধ্য।