পকেটের নোটে গান্ধীজির এই হাসিমুখ এল কোথা থেকে? জানলে অবাক হবেন স্বাধীনতার পরেও ছিল ব্রিটিশ রাজার ছবি!

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে ইউপিআই (UPI) লেনদেন আমাদের পকেটে নগদের টান কমালেও, গোলাপি বা সবুজ নোটের ওপর মহাত্মা গান্ধীর সেই পরিচিত হাসিমুখ আজও ভারতীয় অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু আপনি কি জানেন, ভারত স্বাধীন হওয়ার ঠিক পরেও আমাদের নোটে গান্ধীজির ছবি ছিল না? এমনকি স্বাধীনতার কয়েক বছর পর পর্যন্তও ভারতীয় মুদ্রায় ব্রিটিশ রাজার আধিপত্য ছিল। আজকের প্রতিবেদনে জানাবো ভারতীয় মুদ্রার সেই বিস্ময়কর পরিবর্তনের ইতিহাস।

ব্রিটিশ রাজ থেকে অশোক স্তম্ভ: এক কঠিন রূপান্তর ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলেও রাতারাতি নোটের চেহারা বদলে ফেলা সম্ভব হয়নি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ভারতীয় নোটে ব্রিটিশ সম্রাট ষষ্ঠ জর্জের ছবিই রয়ে গিয়েছিল। স্বাধীন ভারত তখন নিজের নতুন পরিচয় খুঁজছিল। ১৯৪৯ সালে প্রথমবার এক টাকার নোট থেকে ব্রিটিশ রাজার ছবি সরিয়ে বসানো হয় সম্রাট অশোকের ‘সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভ’। মজার বিষয় হলো, সেই সময়ই গান্ধীজির ছবি ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছিল, নকশাও তৈরি ছিল। কিন্তু ভারত সরকার শেষ পর্যন্ত জাতীয় প্রতীক হিসেবে অশোক স্তম্ভকেই বেছে নেয়।

১৯৬৯: যখন প্রথমবার নোটে এলেন বাপু দীর্ঘ অপেক্ষার পর ১৯৬৯ সালে প্রথমবার ভারতীয় নোটের ওপর মহাত্মা গান্ধীর ছবি দেখা যায়। সেই বছর ছিল গান্ধীজির জন্মশতবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে একটি স্মারক সিরিজ বের করা হয়, যেখানে গান্ধীজির ছবির পেছনে নেপথ্যে ছিল ‘সেবাগ্রাম আশ্রম’। তবে এটি স্থায়ী ছিল না। ১৯৭৮ সালের নোটবন্দির পর নোটে কোণার্ক চাকা বা ময়ূরের মতো সাংস্কৃতিক প্রতীক বেশি গুরুত্ব পায়। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে ৫০০ টাকার নোটে ফের গান্ধীজির ছবি ফিরে আসে, যদিও তখন জলছাপে অশোক স্তম্ভ ছিল।

জাল নোট রুখতে ‘মহাত্মা গান্ধী সিরিজ’ নব্বইয়ের দশকে জাল নোটের সমস্যা বাড়তে থাকায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বড়সড় পদক্ষেপ নেয়। ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ‘মহাত্মা গান্ধী সিরিজ’। মেটালিক স্ট্রিপ, বিশেষ জলছাপ এবং উন্নত সুরক্ষা বলয় সমৃদ্ধ এই সিরিজই গান্ধীজিকে ভারতীয় মুদ্রার স্থায়ী মুখ করে তোলে।

এই ঐতিহাসিক ছবিটির নেপথ্যে কী রহস্য? অনেকেই মনে করেন নোটের ছবিটি কোনো আঁকা ছবি বা স্কেচ। আসলে তা নয়। এটি ১৯৪৬ সালে তোলা একটি আসল ছবির ক্রপ করা অংশ। ভাইসরয় হাউসে (বর্তমান রাষ্ট্রপতি ভবন) লর্ড ফ্রেডেরিক উইলিয়াম পথিক লরেন্সের সঙ্গে কথা বলার সময় গান্ধীজি হাসছিলেন। সেই স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত হাসিমুখটিকেই মুদ্রা বিশেষজ্ঞ এবং আরবিআই চূড়ান্ত করে। সত্য, অহিংসা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে মহাত্মা গান্ধীর এই ছবিই আজ ভারতের বিশ্বজনীন পরিচয়।