আরজেডিতে ‘তেজস্বী’ যুগ! লালুর হাত থেকে কি আজই ব্যাটন যাচ্ছে ছেলের হাতে? তোলপাড় পাটনা!

বিহারের রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় আরজেডি শিবির। রবিবার পাটনায় রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (RJD) জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেগা বৈঠক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রবল গুঞ্জন, দলের সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদব তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং বয়সের কথা বিবেচনা করে আজই পুত্র তেজস্বী যাদবের হাতে দলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে পারেন। তেজস্বীকে আজই আরজেডির ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’ হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাবনা প্রবল।
ঘরের বিবাদ কি প্রকাশ্যে? বৈঠক শুরুর আগেই আরজেডি শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন লালু-কন্যা রোহিণী আচার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি তেজস্বীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আক্রমণ শানিয়েছেন। দলের অভ্যন্তরে এই পারিবারিক কলহ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তবে লালু প্রসাদ নিজে এই সভার উদ্বোধন করবেন, যেখানে ২০টি রাজ্যের সভাপতি এবং সাংসদ-বিধায়করা উপস্থিত রয়েছেন।
পরাজয়ের পর ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানে তেজস্বী নভেম্বরের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির পারফরম্যান্স আশানুরূপ হয়নি। সেই হারের দায় ঝেড়ে ফেলতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তেজস্বী। সূত্রের খবর, দলের রাজ্য সভাপতি মাঙ্গানি লাল মণ্ডল তেজস্বীর কাছে একটি বিশেষ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে দলের প্রায় ৩০০ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নির্বাচনের পর শনিবারই প্রথম দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে তেজস্বী বুঝিয়ে দিয়েছেন, সংগঠনে কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
নীতীশ সরকারকে তীব্র আক্রমণ যদিও তেজস্বী আগে জানিয়েছিলেন নতুন সরকার গঠনের ১০০ দিন তিনি চুপ থাকবেন, কিন্তু বিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নীতীশ কুমার ও বিজেপিকে তোপ দেগেছেন। তেজস্বীর অভিযোগ, অপরাধ দমনের বদলে বিজেপি নেতারা তাঁর বিদেশ সফর নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন। পাল্টা জবাবে জেডিইউ নেতা নীরজ কুমার বলেছেন, যিনি নিজের শপথ রাখতে পারেন না, তাঁর রাজনীতি নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা নেই।