মাঝরাতে কাঁপল পাঞ্জাব! রেললাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে কি নাশকতার ছক?

প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক দু’দিন আগে পাঞ্জাবে বড়সড় নাশকতার ছক? শুক্রবার গভীর রাতে ফতেগড় সাহিব জেলার সিরহিন্দ স্টেশনের কাছে মালগাড়ির রেললাইনে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অমৃতসর-দিল্লি রুটের সমান্তরাল এই লাইনে বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন লোকো পাইলট। ঘটনার জেরে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, দেশের সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে বড় কোনো রক্তক্ষয়ী নাশকতার মহড়া হিসেবেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ: রেল পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ সিরহিন্দ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কানপুর গ্রামের কাছে যখন মালগাড়িটি যাচ্ছিল, তখনই হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে রেললাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রেনের ইঞ্জিনের কাঁচ ভেঙে আহত হন চালক। স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে বহুদূর থেকেও তা স্পষ্ট শোনা গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান রোপার রেঞ্জের ডিআইজি নানক সিংহ এবং উচ্চপদস্থ তদন্তকারী দল।
সন্ত্রাসবাদী যোগের আশঙ্কা: পাঞ্জাব পুলিশ কয়েক দিন আগেই নিষিদ্ধ সংগঠন ‘বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল’ (BKI)-এর একটি মডিউল ধ্বংস করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স (RDX) ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। এদিনের বিস্ফোরণেও আরডিএক্স ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে। অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিংহ বাদল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “পাঞ্জাবে পুনরায় অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। রেললাইনে আরডিএক্স বিস্ফোরণের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত: আপাতত রেল আইনের ১৫০ নম্বর ধারায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে গোটা পাঞ্জাব জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই নাশকতার নেপথ্যে কোনো আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি সংগঠনের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ (NIA) এবং স্থানীয় পুলিশ।