কলকাতায় ইডি ডিরেক্টরের নিরাপত্তায় জওয়ানদের পাহাড়! কিসের এত ভয় রাহুল নবীনের?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর ডিরেক্টর রাহুল নবীনের সাম্প্রতিক কলকাতা সফর ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। সাধারণত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা ভিভিআইপি-দের ক্ষেত্রে যে ধরনের সুরক্ষা বলয় দেখা যায়, এবার সেই একই ছবি দেখা গেল ইডি প্রধানের কনভয়ে। একসঙ্গে ছ’টি গাড়ি এবং প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র জওয়ান—তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তার জন্য এমন জেড প্লাস স্তরের নিরাপত্তা কেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে কলকাতার অলিতে-গলিতে।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সরাসরি নির্দেশে রাহুল নবীনকে এই বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দিল্লিতে বা অন্য কোনও রাজ্যে সফরের সময় তিনি সাধারণত এই স্তরের নিরাপত্তা পান না। কিন্তু কলকাতায় পা রাখামাত্রই সিআরপিএফ-এর ভিআইপি সিকিউরিটি গ্রুপ তাঁকে ঘিরে ধরে। গোয়েন্দা মহলের মতে, আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে সাম্প্রতিক ইডি তল্লাশি এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ‘হাই-রিস্ক’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি শুধু রাস্তাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দপ্তরের প্রতিটি গেট, সিঁড়ি এমনকি করিডোরেও জওয়ানদের অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। মোতায়েন করা হয়েছিল দুই প্লাটুন অতিরিক্ত সিআরপিএফ। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এটি কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি বার্তাও। আইপ্যাক-কাণ্ডের তদন্তে যে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার ওপর কোনও রকম হামলা বা বাধার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না দিল্লি। সেই কারণেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে রাহুল নবীনের সুরক্ষাকবচ নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন আয়োজনই বলে দিচ্ছে, আগামী দিনে বাংলায় বড়সড় কোনও পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে ইডি।