‘তৃণমূল ৭৫ পার করতে পারবে না’, মমতা-অভিষেককে সরাসরি লড়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন হুমায়ুন কবীর

বসিরহাট: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের সুর আরও চড়া করলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার বসিরহাটে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। তাঁর সাফ দাবি, আগামী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কোনোভাবেই ৭৫টি আসন টপকাতে পারবে না। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শনিবার বসিরহাটের পীর আল্লামা রুহুল আমিন সাহেবের মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেখান থেকেই তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন সমীকরণ তৈরি হতে দেখা যায়। মাজার জিয়ারতের পর জাতীয় কংগ্রেস নেতা পীরজাদা খোবায়েব আমিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকের পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যে কেউ আমার বিরুদ্ধে সরাসরি ভোটে দাঁড়িয়ে দেখুন। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, তৃণমূল আগামী নির্বাচনে ৭৫টির বেশি আসন পাবে না।”
হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের নানা সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য বারবার দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এদিন কংগ্রেস নেতার সঙ্গে তাঁর বৈঠক সেই জল্পনাকেই উসকে দিল যে, হুমায়ুন কি তবে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে হাতের হাত ধরতে চলেছেন?
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এখনও কড়া কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে দলের অন্দরে যে অস্বস্তি বাড়ছে তা স্পষ্ট। বসিরহাটের এই মাজার জিয়ারত এবং পীরজাদার সঙ্গে বৈঠক কি কোনো নতুন জোটের ইঙ্গিত? নাকি স্রেফ চাপ তৈরির কৌশল? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে ভোটের আগে হুমায়ুনের এই ‘৭৫ আসনের চ্যালেঞ্জ’ যে তৃণমূলের জন্য বড় মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।