মাত্র ৫০ গুনতে পারেনি ৪ বছরের শিশু, বাবার হাতে করুণ পরিণতি দেখে কাঁপছে দেশ!

মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মাত্র ৫০ পর্যন্ত সংখ্যা গুনতে না পারার অপরাধে নিজের চার বছরের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল এক বাবার বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে গোটা দেশ। শিক্ষার নামে একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানের ঘাতক হয়ে উঠতে পারেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ঘটনাটি গত ২১ জানুয়ারির। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বাবার নাম কৃষ্ণ জয়সওয়াল, যিনি মূলত উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে ফরিদাবাদের একটি গ্রামে সপরিবারে থাকতেন। ঘটনার সময় বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না। কৃষ্ণের স্ত্রী কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। কৃষ্ণ বাড়িতে নিজের চার বছরের মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন। পড়া দেওয়ার সময় তিনি মেয়েকে ১ থেকে ৫০ পর্যন্ত গুনতে বলেন। কিন্তু ওইটুকু শিশু সমস্ত সংখ্যা সঠিকভাবে মনে রাখতে পারেনি। আর এতেই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে কৃষ্ণ।

অভিযোগ, মেয়ে গুনতে না পারায় রাগে উন্মত্ত হয়ে ওঠে বাবা। সে ওই একরত্তি শিশুকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। বাবার পৈশাচিক প্রহারে কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান হারিয়ে নেতিয়ে পড়ে শিশুটি। অবস্থা বেগতিক দেখে কৃষ্ণ তড়িঘড়ি তাকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিজের অপরাধ ঢাকতে কৃষ্ণ এক ভয়ংকর ছক কষেছিলেন। স্ত্রীকে খবর দিয়ে তিনি জানান যে, খেলতে খেলতে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মায়ের মন মানেনি। মেয়ের নিথর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে কৃষ্ণ এবং স্বীকার করে যে, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরেই সে তার নিজের সন্তানকে হত্যা করেছে। কৃষ্ণ জানায়, তার তিন সন্তান— সাত বছরের ছেলে, ৪ বছরের মৃত মেয়ে এবং ২ বছরের এক শিশুকন্যা। মৃত শিশুটি স্কুলে যেত না, বাবার কাছেই বাড়িতে পড়ত। ঘাতক বাবাকে ইতিমধেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।