ইন্ডিগোর ডানা ছাঁটলো DGCA! একসঙ্গে ৭১৭টি এয়ারপোর্ট স্লট ছাড়তে বাধ্য হলো দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা

ভারতীয় আকাশসীমায় একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এবার বড়সড় ধাক্কা খেল ইন্ডিগো (IndiGo)। বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিডিসিএ-র (DGCA) নির্দেশে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে নিজেদের ৭১৭টি স্লট ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে এই সংস্থা। মূলত গত বছরের শেষে অপারেশনাল ত্রুটি এবং যাত্রী ভোগান্তির শাস্তিস্বরূপ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে। তীব্র শীত এবং কুয়াশার মাঝে ইন্ডিগোর শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত হয় এবং শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে DGCA ইন্ডিগোকে তাদের শীতকালীন ফ্লাইটের সময়সূচী ১০ শতাংশ কমিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। দৈনিক ২,২০০-র বেশি ফ্লাইট চালানো ইন্ডিগোকে নেটওয়ার্ক স্থিতিশীল করতেই এই ‘ছাঁটাই’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এয়ারপোর্ট স্লট কী? সহজ ভাষায়, একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামার যে অনুমতি বা ‘টাইম উইন্ডো’ থাকে, তাকেই স্লট বলে। ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে এই স্লট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল।

স্লটগুলো এখন কাদের হাতে যাবে?

বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক জানিয়েছে, ইন্ডিগোর ছেড়ে দেওয়া এই স্লটগুলোর জন্য এখন অন্যান্য দেশীয় বিমান সংস্থাগুলি আবেদন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু কড়া শর্ত দেওয়া হয়েছে:

  • অতিরিক্ত সক্ষমতা: নতুন বিমান এবং পর্যাপ্ত পাইলট ও ক্রু মেম্বার থাকলেই কেবল এই স্লট মিলবে।

  • রুট সংযোগ: নতুন স্লট পেতে গিয়ে পুরনো কোনো রুট বা কানেক্টিভিটি বন্ধ করা যাবে না।

  • সঠিক ব্যবহার: স্লট বরাদ্দ পাওয়ার পর তা অব্যবহৃত ফেলে রাখলে তৎক্ষণাৎ বরাদ্দ বাতিল করা হবে।

যাত্রীদের ওপর প্রভাব

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ইন্ডিগোর এই কাটছাঁট কার্যকর থাকবে। এর ফলে ব্যস্ত সময়ে ইন্ডিগোর ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, আকাসা এয়ার বা স্পাইসজেটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলোর সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে করে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিয়ামক সংস্থার নির্দেশ মেনে চলছে এবং যাত্রীদের নির্ভরযোগ্য পরিষেবা দিতেই এই সাময়িক সংকোচন।