মমতার সুরের উল্টো পথে কাজল শেখ? ফরাক্কা কাণ্ডে বিধায়ককে বিঁধে বীরভূমের নেতার ‘বিস্ফোরক’ পরামর্শ

ভোটের মুখে ‘SIR’ (সন্দেহভাজন ভোটার তালিকা সংশোধন) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি, ঠিক তখনই দলের অন্দরে তৈরি হলো চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তীব্র আক্রমণ করছেন, সেখানে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের মুখে শোনা গেল একেবারে উল্টো সুর। ফরাক্কায় বিডিও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় যখন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম ‘জনবিস্ফোরণ’-এর দোহাই দিচ্ছেন, তখন কাজল শেখ স্পষ্ট জানালেন— “ভাঙচুর করবেন না, কমিশনের নোটিশের জবাব দিন।”
দলীয় লাইনের বিপরীতে কাজল? নেতাজির জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার ছেড়েছেন, “আমাদের প্রমাণ করতে হবে আমরা ভারতের ভোটার কি না!” তিনি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে SIR প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন। অথচ কাজল শেখ ও তাঁর মা-কে আগামী ২৮ জানুয়ারি শুনানির জন্য ডেকেছে কমিশন। এ প্রসঙ্গে কাজলের বক্তব্য, “কমিশন ডাকলে প্রুফ নিয়ে পেশ করুন। ভোটাধিকার বঞ্চিত না হয়ে উন্নয়নের পক্ষে রায় দিন। আমাকে আর মাকে ডেকেছে, আমি যাব।”
মণিরুল বনাম কাজলের ‘দ্বৈরথ’: গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কায় বিডিও অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় কাঠগড়ায় ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম। নির্বাচন কমিশন এফআইআর (FIR)-এর নির্দেশ দিলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। উল্টে মণিরুল দাপুটে মেজাজে দাবি করেছেন, ওটা ছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই ‘তাণ্ডব’ সংস্কৃতিকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন কাজল শেখ। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “প্রত্যেক মানুষকে বলব ভাঙচুর নয়, নোটিশ পেলে তার জবাব দিন।”
বিজেপির খোঁচা: কাজল শেখের এই অবস্থানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “উনি নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন, তাই সুর নরম করেছেন। বাকিদেরও আগামী দিনে এটাই করতে হবে।” সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের এই দাপুটে নেতার মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরের ফাটল নাকি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।