স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে ধুন্ধুমার! পুলিশের লৌহব্যুহ ভেঙে কি দাবি আদায় হবে আশা কর্মীদের?

পঞ্চায়েত ও পুরসভার স্বাস্থ্য পরিষেবার মেরুদণ্ড যারা, সেই আশা কর্মীরা আজ অধিকার ছিনিয়ে নিতে পথে নামলেন। বেতন বৃদ্ধি ও সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে তাঁদের ‘স্বাস্থ্য ভবন অভিযান’ ঘিরে বুধবার সকালে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল সল্টলেকে। আন্দোলন রুখতে সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবন চত্বর।
আশা কর্মীদের এই অভিযান ঘিরে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ ও স্বাস্থ্য ভবন সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। লোহার জাল, গার্ডরেল এবং বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। পুলিশের এই অতি সক্রিয়তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। পরিচয়পত্র যাচাই করে তবেই স্বাস্থ্য ভবনের কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।
আশা কর্মীদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
-
মাসে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন নিশ্চিত করতে হবে।
-
অন্যান্য সরকারি কর্মীদের মতো সবেতন ছুটির অধিকার দিতে হবে।
-
কর্মরত অবস্থায় কোনো আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারকে সরকারি সাহায্য বা আর্থিক বিমা দিতে হবে।
এই আন্দোলনের জেরে সল্টলেকের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। উইপ্রো মোড় থেকে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে কোনো বাস ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না; সমস্ত গাড়িকে ওয়েববেলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার নিকো পার্কের দিক থেকে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এই অবরোধ ও অভিযানের ফলে সাধারণ নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, দিনরাত এক করে কাজ করলেও তাঁরা প্রাপ্য মর্যাদা ও সঠিক বেতন থেকে বঞ্চিত। এই আন্দোলন তাঁদের অস্তিত্বের লড়াই। এখন প্রশ্ন হলো, পুলিশি ব্যারিকেড পেরিয়ে তাঁরা কি স্বাস্থ্য ভবনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে পারবেন? সরকার কি তাঁদের দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি মেনে নেবে? সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।