বন্ধুই হলো যম! তান্ত্রিকের নির্দেশে ‘নরবলি’, গাজিয়াবাদে বন্ধুকে খুনের পর ই-রিকশায় জ্বালিয়ে দিল দুই যুবক

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে কুসংস্কারের এক হাড়হিম করা নিদর্শন সামনে এল। স্রেফ তান্ত্রিকের দেওয়া ‘ঐশ্বরিক শক্তি’ এবং ‘অঢেল ধনসম্পদের’ প্রলোভনে পা দিয়ে নিজের বন্ধুকে ‘নরবলি’ দিল দুই যুবক। লোনির ট্রোনিকা সিটি এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি একটি ই-রিকশার ভেতর ঢুকিয়ে পুড়িয়ে দেয় তারা। পুলিশ এই ঘটনায় পবন (২৫) ও সাগর (২৪) নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: রহস্যের সূত্রপাত হয় গত ১৬ জানুয়ারি, যখন লোনির মিল্ক বিকাশ নগরের বাসিন্দা নবীনের (ওরফে নন্দু) ভাই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ ট্রোনিকা সিটির একটি নির্জন জায়গায় একটি ভস্মীভূত ই-রিকশা এবং তার ভেতরে মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পায়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই দেহাবশেষ নিখোঁজ নবীনেরই। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নবীনের দুই বন্ধু পবন ও সাগরকে আটক করে।
মদ পার্টি ও গ্যাস সিলিন্ডারে হামলা: জেরায় অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে যে, ১৩ জানুয়ারি রাতে সাগরের বাড়িতে তারা তিন বন্ধু মিলে মদ্যপানের আসর বসিয়েছিল। নবীন নেশাগ্রস্ত হয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়লে, পবন ও সাগর একটি ভারী গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে তাঁর মাথায় ক্রমাগত আঘাত করে তাঁকে খুন করে। এরপর দেহটি কম্বলে মুড়িয়ে ই-রিকশায় চাপিয়ে দূরে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নিহতের পরিচয় গোপন থাকে।
তান্ত্রিকের মরণফাঁদ: পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানায়, তারা দিল্লির এক তান্ত্রিকের সংস্পর্শে এসেছিল। ওই তান্ত্রিক তাদের বুঝিয়েছিল যে, যদি তারা কাউকে ‘বলি’ দিতে পারে, তবে তাদের ওপর প্রচুর সম্পদ বর্ষিত হবে এবং তারা অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী হবে। এই লোভে পড়েই তারা নিজেদের বন্ধুকে খুনের পরিকল্পনা করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতি ও চুরির মামলা রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ অভিযুক্ত তান্ত্রিক ও নাসিম নামে আরও এক পলাতক সঙ্গীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।