সৌদি আরব না ইউএই? মধ্যপ্রাচ্যের দুই মহারাজার মধ্যে কার দিকে ঝুঁকবে ভারত? জানুন পর্দার পেছনের সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান আজ ভারতে পা রাখছেন। গত ১০ বছরে এটি তাঁর পঞ্চম ভারত সফর, যা নয়াদিল্লি এবং আবুধাবির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উষ্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গালফ অঞ্চলের দুই প্রধান স্তম্ভ সৌদি আরব এবং ইউএই-র মধ্যে ভারতের জন্য আসলে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কে?
ইউএই: কেন ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক ডার্লিং’? ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত ‘সেপা’ (CEPA) চুক্তির পর থেকে ভারত-ইউএই সম্পর্ক আকাশছোঁয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারত থেকে ইউপিআই (UPI) এবং রুপে (RuPay) কার্ড এখন ইউএই-তে অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। শুধু তাই নয়, আমিরাত ভারতে ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ (FDI) করেছে, যা পরিকাঠামো এবং এআই (AI) ক্ষেত্রে ভারতের বড় শক্তি।
সऊदी আরব: শক্তির উৎস ও আস্থার প্রতীক অন্যদিকে, সৌদি আরব ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান উৎস। ভারতের জন্য সৌদি শুধু একটি দেশ নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের প্রধান নেতা এবং জিসিসি (GCC)-র চালিকাশক্তি। রিলায়েন্স জিও-র মতো বড় ভারতীয় সংস্থায় সৌদির পিআইএফ (PIF)-এর বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। এছাড়াও সৌদিতে বসবাসকারী বিশাল সংখ্যক ভারতীয় প্রবাসী ভারতের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখেন।
ভারসাম্যের কূটনীতি সউদি ও ইউএই-র মধ্যে বর্তমানে কিছু বিষয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চললেও ভারত অত্যন্ত সুকৌশলে দুই দেশের সাথেই ভারসাম্য বজায় রাখছে। একদিকে যেমন ইউএই-র সাথে প্রযুক্তির আদানপ্রদান চলছে, অন্যদিকে সৌদির সাথে নৌ ও সেনামহড়া (‘আল মোহেদ আল হিন্দি’) করে সামরিক সম্পর্ক মজবুত করছে দিল্লি। আজকের এই হাই-প্রোফাইল সফর সেই ভারসাম্যের রাজনীতিকেই এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।