বন্ধুর পিঠে ছুরি? রাশিয়াকে ‘মরণ কামড়’ দিল চীন! নতুন বছরে ভ্লাদিমির পুতিনকে বড় ঝটকা জিনপিংয়ের

বিশ্বমঞ্চে রাশিয়া ও চীনের বন্ধুত্বকে অনেকেই ‘অটুট’ বলে মনে করেন। কিন্তু বাণিজ্য যখন সামনে আসে, তখন যে স্বার্থই বড় হয়ে দাঁড়ায়, তার প্রমাণ মিলল ২০২৬-এর শুরুতেই। দীর্ঘদিনের জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করে ১লা জানুয়ারি থেকে রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে চীন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে যখন রাশিয়ার অর্থনীতি এশীয় বাজারের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল, ঠিক তখনই বেজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত মস্কোর জন্য এক বিরাট বড় ‘ডিজিটাল শক’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এই সংঘাতের মূলে রয়েছে বিদ্যুতের দাম। রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রতি রাশিয়ার বিদ্যুৎ রপ্তানির দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে তা চীনের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খরচের চেয়েও বেশি। সহজ কথায়, নিজের দেশে বিদ্যুৎ তৈরি করা এখন চীনের কাছে সস্তা, আর রাশিয়া থেকে কেনা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এই দাম কমার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে চলতি বছরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার আশা নেই বললেই চলে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়ার সঙ্গে চীনের এই টানাপোড়েনে ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে? ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারত সরাসরি রাশিয়ার থেকে বিদ্যুৎ কেনে না, কারণ দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ নেই। তবে ভারত রাশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও কয়লা কেনে। চীনের এই সিদ্ধান্তে ভারতের তেল বা কয়লা আমদানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, বরং জ্বালানি বাজারে ভারত এখন আরও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে। তবে চীন যেভাবে দরাদরিতে রাশিয়াকে কোণঠাসা করছে, তা থেকে স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ড্রাগন বাহিনী কোনো আবেগের ধার ধারে না।