“কৈশোরে মানসিক সমস্যার মূলে সামাজিক মাধ্যম নয়”-জেনেনিন কি বলছে গবেষণা?

স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া আর ভিডিও গেম—বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের অবসাদ বা বিষণ্নতার জন্য অভিভাবকরা সাধারণত এই তিনটি বিষয়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান। তবে ‘ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি’র সাম্প্রতিক এক বৃহৎ গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া বা গেম খেলা সম্ভবত অল্পবয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মূল কারণ নয়।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘#বিওয়েল’ প্রোগ্রামের আওতায় ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ২৫ হাজার টিনএজারের ওপর টানা তিন বছর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অভ্যাস, গেম খেলার সময় এবং মানসিক অবস্থার তথ্য গবেষকদের কাছে জমা দিয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছরের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকা বা ঘনঘন গেম খেলার ফলে পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতা বেড়ে যাওয়ার কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।

সহ-গবেষক অধ্যাপক নিল হামফ্রি এই বিষয়ে এক নতুন দিক তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি সবসময় একমুখী নয়। বরং অনেক সময় দেখা যায়, যাদের মন খারাপ থাকে বা যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তারা সময় কাটানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা গেমিংয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ প্রযুক্তি তাদের সমস্যার কারণ নয়, বরং তারা প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, কেবল প্রযুক্তিকে দোষারোপ না করে তরুণরা অনলাইনে ঠিক কী করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে এবং বাস্তবে তারা কতটা মানসিক সমর্থন পাচ্ছে—সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

গবেষণার প্রধান গবেষক ড. কিউকি চেং স্পষ্ট করেছেন যে, বিষয়টি অনেক বেশি জটিল। কেবল স্ক্রিন টাইমের ওপর নজর দিলে মূল সমস্যাটি আড়ালে থেকে যায়। তবে গবেষণায় একটি মজার তথ্য উঠে এসেছে—যেসব ছেলেরা আবেগজনিত সমস্যায় ভুগেছে, তারা পরবর্তীতে গেম খেলার সময় কমিয়ে দিয়েছে। এর কারণ হতে পারে শখের কাজের প্রতি আগ্রহ হারানো বা অভিভাবকদের কড়া নজরদারি।

গবেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এর মানে এই নয় যে ইন্টারনেট পুরোপুরি নিরাপদ। অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং বা উগ্র কন্টেন্ট মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধু কত সময় ফোনের পর্দায় কাটানো হচ্ছে, তাকেই বিষণ্নতার মূল কারণ হিসেবে দেখা ভুল। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জার্নাল অফ পাবলিক হেলথ’-এ প্রকাশিত হয়েছে।