রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মিটছে উপাচার্য জট! সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি নবান্ন ও রাজভবনের

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা উপাচার্য নিয়োগ (VC Appointment) সংক্রান্ত জটিলতায় এবার বড়সড় স্বস্তি মিলল। সুপ্রিম কোর্টের মধ্যস্থতায় রাজ্য সরকার এবং রাজভবনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বরফ গলতে শুরু করেছে। শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের জন্য উভয় পক্ষই সহমত পোষণ করেছে, সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে।

জট কাটল ১৭টির মধ্যে ১১টিতেই! বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে রাজ্য ও রাজভবনের আইনজীবীরা জানান, বর্তমানে মাত্র ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে:

  • ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়: এই নামগুলোতে রাজ্য এবং আচার্য (রাজ্যপাল) দুই পক্ষই একমত হয়েছেন। আদালত দ্রুত এদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে।

  • বাকি ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়: এই তিনটি ক্ষেত্রে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ইউ ইউ ললিতের নেতৃত্বাধীন সার্চ অ্যান্ড সিলেকশন কমিটিকে। চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতকে এই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে।

সংঘাতের শুরু ও বর্তমান পরিস্থিতি রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টিতে স্থায়ী উপাচার্য থাকলেও ১৭টি নিয়ে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস নবান্নের পাঠানো তালিকায় সম্মতি না দিয়ে নিজের পছন্দমতো ‘অস্থায়ী উপাচার্য’ নিয়োগ শুরু করায় বিবাদ চরমে পৌঁছায়। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।

এর আগে কলকাতা, যাদবপুর, গৌরবঙ্গ এবং বিশ্ববাংলার মতো ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছিল। এবার নতুন ৮টি নাম চূড়ান্ত হওয়ায় সেই সংখ্যাটি আরও বাড়ল।

কমিটির হাতেই ভবিষ্যৎ বাকি তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বিচারপতি ললিতের কমিটি পুরনো প্যানেল থেকে কাউকে বেছে নেবে নাকি নতুন করে নাম খুঁজবে, তার সিদ্ধান্ত নেবে তারা নিজেই। তবে আদালতের এই কড়া অবস্থানে আশার আলো দেখছেন শিক্ষক সমাজ থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ পড়ুয়া।