২১৬ ফুটের মহাকাল! বাংলার মাটিতে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি, বড় চমক মমতার

ধর্মীয় পর্যটনে এবার বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। দিঘার জগন্নাথ ধাম আর নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর, এবার উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়া-নকশালবাড়িতে বিশ্বের উচ্চতম ‘মহাকাল মন্দির’ ও মূর্তির শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতেই এই মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার।
বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি: এক নজরে বিশেষত্ব মাটিগাড়ার লক্ষ্মী টাউনশিপে প্রায় ১৭.৪১ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল মন্দির চত্বর। এই প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণ হলো ২১৬ ফুট উচ্চতার মহাকাল মূর্তি।
-
মূর্তির গঠন: মূল ব্রোঞ্জের মূর্তিটি হবে ১০৮ ফুটের। আর যে ভিত্তির (পেডিস্টাল) ওপর এটি দাঁড়াবে, তার উচ্চতাও হবে ১০৮ ফুট। অর্থাৎ মোট ২১৬ ফুট উঁচু এই স্থাপত্যটি রাস্তা থেকেই সাধারণ মানুষের নজরে আসবে।
-
মিউজিয়াম ও হল: ১০৮ ফুটের ওই পেডিস্টাল ব্লকের ভেতরেই তৈরি হবে একটি দোতলা মহাকাল মিউজিয়াম এবং বিশাল সংস্কৃতি হল।
কী কী থাকছে এই মহাতীর্থে? মুখ্যমন্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, এই মন্দির হবে আধুনিক স্থাপত্য ও প্রাচীন ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন।
-
১২ জ্যোতির্লিঙ্গ: মন্দির চত্বরের সীমানা জুড়ে ভারতের বিখ্যাত ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ বা অভিষেক লিঙ্গ মন্দির থাকবে।
-
অন্যান্য বিগ্রহ: শিবালয়ের রীতি মেনে চার কোণে থাকবে গণেশ, কার্তিক, শক্তি এবং বিষ্ণু নারায়ণের মূর্তি। সাথে থাকছে দুটি বিশাল ‘নন্দীগৃহ’।
-
প্রদক্ষিণ পথ: ১০ হাজার ভক্তের একসাথে ঘোরার জন্য দুটি প্রশস্ত প্রদক্ষিণ পথ তৈরি করা হচ্ছে।
-
সভামণ্ডপ: ৬ হাজার মানুষের বসার মতো সুবিশাল দুটি সভামণ্ডপ থাকবে এখানে।
পর্যটন ও আধুনিক পরিষেবা মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই মহাতীর্থে প্রতিদিন ১ লক্ষ দর্শনার্থী সমাগমের ব্যবস্থা থাকছে। ভক্তদের সুবিধার্থে প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া এবং পুরোহিতদের আবাসন তৈরি হবে। এছাড়াও এখানে পবিত্র ‘রুদ্রাক্ষ কুণ্ড’ ও ‘অমৃত কুণ্ড’ তৈরি করা হবে। পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে এখানে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
দার্জিলিংয়ের ম্যাল রোডের ঐতিহ্যবাহী মহাকাল মন্দিরের কথা স্মরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাকে শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশ্বে এক নম্বর করাই আমাদের লক্ষ্য। এই মন্দির উত্তরবঙ্গের পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।”