সীমান্তে পাক ‘সুইসাইড ড্রোন’-এর হানা! অপারেশন সিঁদুর ভুলে ফের বড় ছক ইসলামাবাদের?

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সেই চরম শিক্ষা কি তবে ভুলেই গেল ইসলামাবাদ? আট মাস যেতে না যেতেই ফের ভারতীয় সীমান্তে পাকিস্তানের দুঃসাহসিক উস্কানি শুরু হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি থেকে জম্মু-কাশ্মীর সীমান্ত জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাক ড্রোন। কেন বারবার এই ড্রোন হানা? কী লুকাতে চাইছে প্রতিবেশী দেশ?
টার্গেট ২৬ জানুয়ারি? ঘনাচ্ছে বিপদের মেঘ
আগামী ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস। তার আগেই সীমান্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাক ড্রোন বাহিনী। সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছেন, ৯ জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত প্রায় ১০ থেকে ১২টি ড্রোন পুঞ্চ, সাম্বা এবং রামগড় সেক্টরে দেখা গিয়েছে। জেনারেলের সাফ কথা, “পাকিস্তান যদি সামরিক উস্কানি দেয়, তবে ভারত যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।”
কী এই ‘কামিকাজে’ ড্রোন? কেন বাড়ছে আতঙ্ক?
ভারতের আকাশে যে ড্রোনগুলি দেখা গিয়েছে, সেগুলিকে বলা হয় ‘কামিকাজে ড্রোন’ (Kamikaze Drone) বা সুইসাইড ড্রোন।
-
এগুলি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে গিয়ে আছড়ে পড়ে নিজে ধ্বংস হয় এবং বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটায়।
-
ছোট আকারের হওয়ায় রাডারে ধরা দেওয়া কঠিন।
-
ড্রোন থেকে ইতিমধ্যে সাম্বা জেলায় ২টি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন, ১৬টি বুলেট এবং গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে।
কেন বারবার এই ড্রোন হানা? বিশেষজ্ঞদের ৩টি বড় আশঙ্কা:
১. রাডার পরীক্ষা: ভারতের নতুন রাডার সিস্টেম কতটা শক্তিশালী এবং তা ড্রোন শনাক্ত করতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করছে পাকিস্তান। ২. অস্ত্র ও মাদক পাচার: জঙ্গিদের কাছে ড্রোন মারফত অস্ত্র এবং মাদক পৌঁছে দেওয়ার নতুন ছক কষছে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ৩. অনুপ্রবেশের পথ খোঁজা: ভারতীয় সেনা কোথায় কতটা মোতায়েন আছে, তা আকাশপথে রেকি করে জঙ্গিদের ঢোকানোর ফাঁক খুঁজছে ইসলামাবাদ।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট
নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদকে কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতের আকাশে ড্রোনের আলো দেখা গেলেই সেগুলিকে গুলি করে নামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।