দিঘায় গিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, সেই দিলীপ কি মহাকাল মন্দিরে যাবেন?

উত্তরবঙ্গের মাটিগাড়ায় আজ হতে চলেছে দেশের বৃহত্তম মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মেগা প্রকল্প নিয়ে যখন উত্তাল শিলিগুড়ি, ঠিক তখনই আক্রমণাত্মক মেজাজে ময়দানে নামলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে ‘ঠেলার নাম বাবাজি’ বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়লেন না তিনি।

🕉️ “আমি হঠাৎ ভক্ত সাজতে মন্দিরে যাই না”

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মতো শিলিগুড়ির এই অনুষ্ঠানেও কি আমন্ত্রণ পেয়েছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষের সাফ জবাব, “কে মন্দির বানাল সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। আমি হঠাৎ ভক্ত সাজতে মন্দিরে যাই না, যাই ভগবানের সঙ্গে দেখা করতে।” তাঁর মতে, মন্দির যে কেউ বানাক না কেন, তিনি সেখানে যাবেনই।

👹 নরকাসুর ও মহিরাবণের তুলনা

নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে ইতিহাস ও পুরাণের উদাহরণ টেনে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কামাখ্যা মন্দির নরকাসুর বানিয়েছিল, আজ তাকে কেউ মনে রাখে না, সবাই যায় মায়ের দর্শনে। মহিরাবণও মন্দির বানিয়েছিল।” তাঁর সংযোজন, “উদ্দেশ্য সৎ না হলে ভগবানও বাধা দেন, আর উদ্দেশ্য সৎ থাকলে কোনও বাধাই থাকে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই পৌরাণিক খলনায়কদের সঙ্গে তুলনা করলেন দিলীপ।

🐱 “ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে”

মন্দির রাজনীতিতে বিজেপি কি এবার কোণঠাসা? এই প্রশ্নে দিলীপের আক্রমণ আরও তীব্র। তিনি বলেন, “বিজেপি ভোটের জন্য মন্দির বানায় না। রাম মন্দির কোনও রাজনৈতিক কৌশল নয়, ৫০০ বছরের সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ফল। এটা সাধারণ মানুষের চাঁদায় তৈরি।” বিরোধী শিবিরের মন্দির প্রীতিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন, “ঠেলার নাম বাবাজি। ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে, এখন কেউ কেউ মন্দিরে উঠছে।”

📍 উত্তরবঙ্গে নয়া ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র

এদিকে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মাটিগাড়ার ১৭ একর জমিতে এই বিশাল মন্দিরের যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দির এবং নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর এবার উত্তরবঙ্গের ধর্মীয় ও পর্যটন পরিকাঠামোয় এই মহাকাল মন্দির বড় সংযোজন হতে চলেছে। তবে উন্নয়নের এই উদ্যোগকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।