জলের মান কেমন? নিয়মিত সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে স্কুলকে

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভগীরথপুরায় দূষিত জল পান করে ১৫ জনের মৃত্যু ও ২০০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। প্রাণ হারিয়েছে স্কুল পড়ুয়ারাও। এই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল সিবিএসই (CBSE)। এবার থেকে প্রতিটি স্কুলকে তাদের পানীয় জলের গুণমান এবং পরিকাঠামোগত সুরক্ষার শংসাপত্র জনসমক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ করতে হবে।
🚰 পানীয় জলের ল্যাব রিপোর্ট বাধ্যতামূলক
সিবিএসই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, স্কুলে কেবল জলের ফিল্টার রাখলেই হবে না। সেই জল পানের যোগ্য কি না, তার ল্যাবরেটরি টেস্টিং রিপোর্ট স্কুলের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। অভিভাবকরা এখন থেকে এক ক্লিকেই দেখে নিতে পারবেন তাঁদের সন্তান স্কুলে যে জল খাচ্ছে, তা আদেও নিরাপদ কি না। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত এই শংসাপত্র নিয়মিত আপডেট করতে হবে।
🔥 জল থেকে আগুন— সুরক্ষার বজ্র আঁটুনি
শুধুমাত্র জল নয়, স্কুলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিবিএসই আরও কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে:
-
ফায়ার সেফটি: অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থার শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
-
বিল্ডিং সেফটি: ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি কি না, সেই শংসাপত্রও দিতে হবে।
-
নো অবজেকশন: রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দেওয়া এনওসি (NOC) এবং আরটিই (RTE) স্বীকৃতির কাগজ আপলোড করতে হবে।
-
প্রতিটি নথি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রধান শিক্ষককে সেলফ অ্যাটেস্টেড করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
💻 ওয়েবসাইটেই থাকবে স্কুলের ‘কুণ্ডলী’
স্কুলের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিবিএসই আরও জানিয়েছে, এখন থেকে স্কুলের ওয়েবসাইটে সব তথ্য থাকবে:
-
ফী-কাঠামো ও পরীক্ষার ফল: গত ৩ বছরের বোর্ড পরীক্ষার ফল ও ফী-র বিস্তারিত তথ্য।
-
শিক্ষক-শিক্ষিকার তথ্য: তাঁদের সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্পেশাল এডুকেটর ও কাউন্সেলরদের বায়োডাটা।
-
পরিকাঠামো: প্রতিটি ক্লাসরুম, লাইব্রেরি ও ল্যাবের আয়তন। এমনকি ছাত্র, ছাত্রী ও বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য আলাদা ক’টি শৌচালয় আছে, তাও জানাতে হবে।
-
ভার্চুয়াল ভিজিট: ইউটিউব লিঙ্কের মাধ্যমে স্কুলের ইনডোর-আউটডোর পরিদর্শনের ভিডিও আপলোড করতে হবে।
😟 কিছু স্কুলের মনে সংশয়
সিবিএসই-র এই নির্দেশিকাকে শিক্ষা মহলের বড় অংশ স্বাগত জানালেও, কলকাতার কিছু নামী স্কুল কিছুটা দ্বিধায়। সল্টলেকের এক প্রিন্সিপালের মতে, নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাঁদের দায়িত্ব, কিন্তু সব তথ্য জনসমক্ষে আনলে স্কুলের ‘গোপনীয়তা’ ও ‘নিরাপত্তা’ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে সিবিএসই-র স্পষ্ট বার্তা— শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা ও অধিকার সবার আগে। — আমি কি সিবিএসই-র দেওয়া এই নতুন চেকলিস্ট বা কোন ওয়েবসাইট থেকে আপনি আপনার সন্তানের স্কুলের তথ্য পাবেন, সেই পদ্ধতিটি বুঝিয়ে বলব?