মহারাষ্ট্র পুরভোটে বড় চমক! নবাব মালিকের ভাই কাপ্তান ধরাশায়ী, কুরলায় কংগ্রেসের জয়জয়কার

মহারাষ্ট্রের ২৯টি পুরসভা এবং বৃহন্মুম্বই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে আজ রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সবথেকে বড় খবর উঠে আসছে কুরলা পশ্চিম থেকে, যেখানে প্রাক্তন মন্ত্রী নবাব মালিকের ভাই কাপ্তান মালিক শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। অজিত পাওয়ারের এনসিপি গোষ্ঠী কাপ্তান মালিকের ওপর বড় বাজি ধরলেও ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ওপরই আস্থা রেখেছেন।
এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থী আশরাফ আজমি নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে আজমির জয়কে মুম্বইয়ের এই অঞ্চলে কংগ্রেসের পুনরুত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আসনে লড়াই ছিল চতুর্মুখী—কংগ্রেসের আশরাফ আজমি, বিজেপির রূপেশ নারায়ণ পাওয়ার, এনসিপি-র কাপ্তান মালিক এবং এনসিপি (শারদ পাওয়ার) গোষ্ঠীর অভিজিৎ কাম্বলের মধ্যে।
নবাব মালিক পরিবার ও টিকিট বিতর্ক: নির্বাচনের আগে থেকেই নবাব মালিক এবং তাঁর পরিবারকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। একই পরিবারের তিন সদস্যকে টিকিট দেওয়া নিয়ে দলের ভেতরেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। অজিত পাওয়ার ১৬৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাপ্তান মালিক, ১৬৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নবাব মালিকের বোন ডাঃ সাঈদা খান এবং ১৭০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাপ্তান মালিকের পুত্রবধূ বুসরা নাদিম মালিককে প্রার্থী করেছিলেন। দলের কর্মীদের একাংশ এই ‘পরিবারতন্ত্র’ মেনে নিতে পারেননি, যার প্রভাব ব্যালট বক্সে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। কাপ্তান মালিকের এই পরাজয় সেই বিতর্কেই কার্যত সিলমোহর দিল।
বাইকুল্লায় ডন-কন্যার হার: অন্যদিকে, বাইকুল্লা (ওয়ার্ড ২০৭) এলাকা থেকেও বড় খবর সামনে এসেছে। কুখ্যাত ডন অরুণ গাওলির মেয়ে যোগিতা গাওলি এই নির্বাচনে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের দলের হয়ে লড়াই করলেও ভোটারদের মন জয় করতে পারেননি তিনি। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী রোহিদাস লোখান্ডে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা এবার কোনো প্রভাবশালী পরিবারের পরিবর্তে উন্নয়নের রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছেন।