পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুতে FIR না করলেই জেল! উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে চরম হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

আইআইটি (IIT) থেকে শুরু করে নামী বিশ্ববিদ্যালয়— দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াদের রহস্যমৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনা এখন প্রায়ই শিরোনামে আসে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ ওঠে যে, প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষায় কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দিতে বা এফআইআর (FIR) করতে গড়িমসি করে। এই অশুভ সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবার ঐতিহাসিক কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট

বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পড়ুয়াদের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে FIR দায়ের করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে।

🚨 মৃত্যু হলেই FIR বাধ্যতামূলক

শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের ভেতরে, হোস্টেলে বা অন্য কোনও জায়গায়— পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যা হলেই অবিলম্বে পুলিশকে জানাতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে পারবে না। এই নিয়ম অনলাইন এবং অফলাইন, উভয় মাধ্যমের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এছাড়া প্রতি বছর এই সংক্রান্ত রিপোর্ট ইউজিসি (UGC)-কে জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

🏥 ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা পরিষেবা

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আদালত একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে:

  • প্রতিটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকতে হবে।

  • যদি ক্যাম্পাসের ভেতরে পরিকাঠামো না থাকে, তবে অন্তত এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জরুরি চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

⏱️ শূন্যপদ পূরণ ও বৃত্তির টাকা নিয়ে কড়াকড়ি

পড়ুয়াদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব মেটাতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত:

  • আগামী চার মাসের মধ্যে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।

  • ভবিষ্যতে কোনও পদ খালি হলে তা এক মাসের মধ্যে নিয়োগ করতে হবে।

  • ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ বা বৃত্তির টাকা আগামী চার মাসের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে। বৃত্তির টাকা দেওয়ার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আগেভাগেই পড়ুয়াদের জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

🚫 র‍্যাগিং রুখতে কঠোর বিধি

২০০৯ সালের ইউজিসি র‍্যাগিং বিরোধী বিধি যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়, তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পড়ুয়াদের সুরক্ষায় প্রশাসনের এই সক্রিয়তা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড়সড় বদল আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।