স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব, তারপরই চরম পরিণতি! মা ও ৩ সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর মর্মান্তিক পরিণতি। বিহারের মুজফফরপুরে নদী সংলগ্ন একটি ব্রিজের তলা থেকে উদ্ধার হলো মা এবং তাঁর তিন নাবালক সন্তানের নিথর দেহ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, চারজনকে নৃশংসভাবে খুন করার পর দেহগুলি ব্রিজের নীচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

🔍 ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রহস্যময় ফোনকল

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন মমতা কুমারী (৩০) এবং তাঁর তিন সন্তান— আদিত্য (৭), অঙ্কুশ (৫) ও দুই বছরের কৃতি কুমারী। গত ১০ জানুয়ারি থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন। মমতার স্বামী, পেশায় অটোচালক কৃষ্ণমোহন কুমারের বয়ান এই মামলায় এক রহস্যময় মোড় এনে দিয়েছে।

কৃষ্ণমোহনের দাবি, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেছিলেন। ওই ব্যক্তি সোজাসুজি কৃষ্ণমোহনকে জানান যে, তিনি মমতাকে বিয়ে করতে চান এবং সেই কারণেই মা ও সন্তানদের অপহরণ করা হয়েছে। প্রথমে বিষয়টিকে ‘প্র্যাঙ্ক কল’ বা মজা বলে উড়িয়ে দিলেও, এখন সেই ফোনকলই খুনের প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

🗓️ কী ঘটেছিল সেই রাতে?

কৃষ্ণমোহন পুলিশকে জানিয়েছেন, ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন মমতা সন্তানদের নিয়ে জিরো মাইল এলাকায় বাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাত বাড়লেও তাঁরা ফেরেননি। এরপর ১২ জানুয়ারি দুটি আলাদা মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর কাছে হুমকি ফোন আসে। অভিযোগ, অপহরণকারীরা জোর করে মমতাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

🛡️ তদন্তে বিশেষ দল (SIT)

মুজফফরপুরের সিনিয়র পুলিশ সুপার (SSP) কান্তেশ কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, চন্দ্রওয়াড়া ব্রিজের কাছ থেকে দেহগুলি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:

  • খুনের মোটিভ বা কারণ খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

  • যে নম্বরগুলি থেকে ফোন এসেছিল, সেগুলির টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে।

  • জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অপহরণের পর বিয়ে করতে চাওয়া নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও পারিবারিক শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাখরি সিপাহপুর এলাকায়।