“খেলতে খেলতে শেষ ৮ বছরের প্রাণ!”-সাইকেল চালানোর সময় গলায় মরণফাঁস ‘চিনা মাঞ্জা’

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে সুরাটের আনন্দ ভিলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত নাবালকের নাম রেহনাশ বোরসে (৮)। সে তার আবাসনের ভেতরেই অন্য এক বন্ধুর সঙ্গে সাইকেল চালাচ্ছিল। সেই সময় কোথা থেকে একটি ঘুড়ির মাঞ্জা দেওয়া সুতো উড়ে এসে তার গলায় পেঁচিয়ে যায়।

রনদের থানার পুলিশ আধিকারিক আর জে চৌধুরী জানান, সুতোটি এতটাই ধারালো ছিল যে রেহনাশের গলার অনেকটা গভীর পর্যন্ত কেটে যায়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে সাইকেল থেকে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

💔 সুরাটে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

তবে কেবল রেহনাশ নয়, চলতি মকর সংক্রান্তির মরশুমে গুজরাটে একাধিক প্রাণ কেড়েছে ঘাতক সুতো। গত বুধবার সুরাটের চন্দ্রশেখর আজাদ উড়ালপুলে ঘটে গিয়েছে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। স্ত্রী ও ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে বাইকে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন রেহান নামের এক ব্যক্তি। উড়ালপুলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা ঘুড়ির সুতো রেহানের গলায় জড়িয়ে যায়। সামলাতে না পেরে বাইক নিয়ে নীচে পড়ে যান তিনজনে। ঘটনাস্থলেই রেহান ও তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার হাসাপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রেহানের স্ত্রীও।

🛣️ কর্ণাটকেও প্রাণ কাড়ল ঘাতক সুতো

বিপদ ছড়িয়েছে কর্ণাটকেও। বিদার জেলায় বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় একইভাবে গলায় ঘুড়ির সুতো পেঁচিয়ে যায় ৪৮ বছর বয়সি সঞ্জুকুমার হোসামানির। অতিরিক্ত রক্তপাতের জেরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

⚠️ প্রশাসনের সতর্কবার্তা

প্রতি বছরই মকর সংক্রান্তির সময় মাঞ্জা দেওয়া বা চিনা সুতোর কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের অসাবধানতা আর নিষিদ্ধ সুতোর ব্যবহার কেড়ে নিচ্ছে তরতাজা প্রাণ। উৎসবের আনন্দ যেন কারও কান্নার কারণ না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।