“মাথার দাম ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা”-আত্মসমর্পণ করলেন ৫২ জন মাওবাদী

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দেওয়া ‘৩১ মার্চ’ ডেডলাইনের আগেই ছত্তিশগড়ে কোণঠাসা মাওবাদীরা। সুকমায় ২৯ জনের পর এবার বিজাপুরে বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিজাপুরের পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) আধিকারিকদের কাছে একসাথে ৫২ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। এই তালিকায় ২১ জন মহিলা সদস্যও রয়েছেন।

💰 ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার মাথার দাম!

বৃহস্পতিবার যাঁরা অস্ত্র ত্যাগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত পুরস্কারের পরিমাণ ছিল আকাশছোঁয়া। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ৪৯ জনের মাথার সম্মিলিত দাম ছিল ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন লখ্‌খু করম ওরফে অনিল, লক্ষ্মী মাডবী এবং চিন্নি সোধির মতো দাপুটে মাওবাদী নেতারা, যাঁদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা করে।

🛤️ ‘পুনা মারগেম’ প্রকল্পের ম্যাজিক

বিজাপুরের পুলিশ সুপার জিতেন্দ্র কুমার যাদব জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারীরা মূলত দণ্ডকারণ্য স্পেশ্যাল জ়োনাল কমিটি, অন্ধ্রপ্রদেশ-ওডিশা সীমা কমিটি এবং ব্রহ্মগড় এরিয়া কমিটির সদস্য ছিলেন। সরকারের ‘পুনা মারগেম’ (নতুন সকালের পথ) প্রকল্পের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁরা হিংসার পথ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আত্মসমর্পণকারীদের তালিকা এক নজরে:

  • ৮ লক্ষ টাকার ইনাম: ৩ জন।

  • ৫ লক্ষ টাকার ইনাম: ১৩ জন।

  • ২ লক্ষ টাকার ইনাম: ১৯ জন।

  • ১ লক্ষ টাকার ইনাম: ১৪ জন।

🤝 পুনর্বাসন ও সরকারি সাহায্য

পথভ্রষ্ট এই মানুষদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে উদ্যোগী প্রশাসন। প্রত্যেক আত্মসমর্পণকারীকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি নীতি অনুযায়ী তাঁদের জন্য ঘর এবং কর্মসংস্থানের মতো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।

🎯 মিশন ২০২৬: মাওবাদী মুক্ত ভারত

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদী সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই গত এক সপ্তাহে দান্তেওয়াড়া, সুকমা ও বিজাপুর মিলিয়ে কয়েকশো মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। গত বছরেই শুধু ছত্তিশগড়ে দেড় হাজারের বেশি মাওবাদী বন্দুক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।