মেহুলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অর্থ পাচার করেছেন ছেলে রোহনও, ED-র নতুন অভিযোগ

পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB) জালিয়াতি মামলায় এবার নতুন মোড়। ১৩,৫০০ কোটি টাকা প্রতারণার অন্যতম মূল হোতা মেহুল চোকসির পর এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) নজরে তাঁর ছেলে রোহন চোকসি। ইডি-র বিস্ফোরক দাবি, বাবার মেগা আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অর্থ পাচারে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন রোহনও।

🏠 মুম্বইয়ের ফ্ল্যাট নিয়ে সংঘাত

পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে ইডি ইতিমধ্যেই চোকসি পরিবারের মোট ২,৫৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যেই রয়েছে মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকা ওয়াকেশ্বর রোডের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এই ফ্ল্যাটটির বর্তমান মালিক মেহুল-পুত্র রোহন চোকসি।

বাজেয়াপ্ত করার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লিতে আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন রোহন। তাঁর দাবি ছিল:

  • ১৯৯৪ সালে পারিবারিক ট্রাস্ট ফ্ল্যাটটি কেনে।

  • ২০১৩ সালে বাবা মেহুল এটি তাঁর নামে লিখে দেন।

  • যেহেতু ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি হয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে, তাই এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে জালিয়াতির কোনও যোগ নেই।

🧠 ইডি-র পাল্টা চাল: ‘পরিকল্পিত জালিয়াতি’

রোহনের যুক্তি উড়িয়ে দিয়ে ইডি-র আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, মেহুল চোকসি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছিলেন। ভবিষ্যতের আর্থিক কেলেঙ্কারির কথা মাথায় রেখেই এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়া আটকাতে তিনি ২০১৩ সালে তড়িঘড়ি ফ্ল্যাটটি ছেলের নামে হস্তান্তর করেন। ইডি-র দাবি, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বলছে—ব্যাঙ্ক জালিয়াতির টাকা তছরুপে রোহনও সমানভাবে যুক্ত।

⚖️ নেপথ্যে কী চলছে?

মজার বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত সিবিআই বা ইডি-র কোনও এফআইআর (FIR) বা চার্জশিটে রোহন চোকসির সরাসরি নাম নেই। চোকসি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রোহন বহু বছর আগেই বাবার থেকে ব্যবসা আলাদা করে নিয়েছেন এবং মেহুলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ নেই। তবে ইডি-র এই কড়া অবস্থান রোহনের জন্য নতুন বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

⛓️ কারাগারে বন্দি মেহুল

২০১৭ সালে কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর অ্যান্টিগুয়া, বারবুডা ও আমেরিকা ঘুরে মেহুল চোকসি পালান বেলজিয়ামে। গত বছরের ১১ এপ্রিল বেলজিয়াম পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি অ্যান্টওয়ার্পের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁকে ভারতে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

বাবার ‘পাপের ঘড়া’ কি এবার ছেলের ক্যারিয়ারেও কালো ছায়া ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।