বাংলাদেশে মুখোশ খুলে গেল NCP-র, কট্টরপন্থী জামাতদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জল্পনাই সত্যি হলো। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করল জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে এই ১১-দলীয় নির্বাচনি জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

🗳️ কে কত আসনে লড়বে?

নির্বাচনি সমঝোতা অনুযায়ী, এই জোটের বড় অংশজুড়েই রয়েছে জামায়াত। আসন বণ্টনের তালিকাটি নিম্নরূপ:

  • জামায়াতে ইসলামী: ১৭৯টি আসন।

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP): ৩০টি আসন।

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২০টি আসন।

  • খেলাফত মজলিস: ১০টি আসন।

  • নিজাম-এ-ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি: ২টি করে আসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট-বড় একাধিক ইসলামী দলকে একত্রিত করে এটিই বর্তমান বাংলাদেশের নির্বাচনের বৃহত্তম জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।

⚡ জোটে হতেই NCP-তে বিরাট ভাঙন!

জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলানোর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে এনসিপি (NCP)। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের ফসল হিসেবে এই দল আত্মপ্রকাশ করলেও, কট্টরপন্থী জামায়াতের সঙ্গে জোট গড়া মেনে নিতে পারছেন না অনেক সদস্য। সূত্রের খবর, আরিফ সোহেল-সহ দলের শীর্ষ সারির একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এনসিপি-কে শুরু থেকেই নেপথ্য থেকে জামায়াত মদত দিচ্ছিল, জোটের ঘোষণায় তা কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর পেল।

🗓️ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: চাল দিচ্ছে বিএনপি-ও

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভাগ্য পরীক্ষা। একদিকে যখন জামায়াত-এনসিপি জোট গড়ে শক্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম দল হিসেবে মাটি কামড়ে পড়ে আছে বিএনপি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেছেন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে তিনি দেশে ফিরে আসায় উজ্জীবিত বিএনপি কর্মীরা। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবারের ভোটে জয়ের অন্যতম দাবিদার।

এখন দেখার, ১১-দলীয় এই ‘ইসলামী জোট’ বনাম বিএনপির দ্বৈরথে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে রায় দেন।