নিপা আতঙ্কে কাঁপছে রাজ্য! কারা হাই-রিস্ক জোনে? স্বাস্থ্য দফতরের নয়া গাইডলাইনে কড়া নির্দেশ

দেশে নিপা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল স্বাস্থ্য দফতর। সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা। নিপা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মূলত দুটি ভাগে ভাগ করে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— ‘হাই রিস্ক’ (উচ্চ ঝুঁকি) এবং ‘লো রিস্ক’ (নিম্ন ঝুঁকি)।
কারা রয়েছেন ‘হাই রিস্ক’ তালিকায়? স্বাস্থ্য দফতরের স্পষ্ট নির্দেশ, যদি কেউ নিশ্চিতভাবে নিপা আক্রান্ত বা ল্যাবে পরীক্ষার আগেই মৃত ব্যক্তির দেহরস (রক্ত, লালা, বমি, প্রস্রাব) সরাসরি সংস্পর্শে আসেন, তবে তিনি উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় পড়বেন। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বা বন্ধ ঘরে কাটালে তাকেও এই শ্রেণিতে রাখা হবে।
কোয়ারেন্টাইন ও নজরদারি: লক্ষণহীন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শেষ সংস্পর্শের দিন থেকে টানা ২১ দিন বাড়িতে নিভৃতবাস বা কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনে দু’বার চেকলিস্ট অনুযায়ী তাঁদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করবেন। জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা ডায়েরিয়ার মতো সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই তৎক্ষণাৎ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করে আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
নিম্ন ঝুঁকির ক্ষেত্রে নিয়ম: আক্রান্তের পোশাক বা ব্যবহার্য বস্তু স্পর্শ করেছেন এমন ব্যক্তিদের ‘লো রিস্ক’ ধরা হবে। তাঁদেরও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে, তবে লক্ষণ না থাকলে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
চিকিৎসা ও ওষুধ: সংক্রমণ ধরা পড়লে বা সন্দেহজনক ক্ষেত্রে রেমডিসিভির, রিবাভিরিন বা ফ্যাভিপিরাভির-এর মতো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমতি নিয়ে ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পরও রোগীকে ৯০ দিন পর্যন্ত কড়া ফলো-আপে থাকতে হবে।